বাংলার রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রে থাকা ডিটেনশন ক্যাম্প ইস্যু ফের ফিরে এল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতায়। উন্নয়নমূলক প্রকল্প, কেন্দ্রের বঞ্চনা এবং SIR বিতর্ক—সব কিছুর মাঝেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলায় কোনওভাবেই ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি হতে দেবেন না। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো মেনে “কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ” করার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বহুক্ষণ উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্পের হিসেব তুলে ধরার পর বক্তব্যের শেষদিকে হঠাৎই বিষয়ের মোড় ঘুরে যায় SIR আতঙ্ক এবং কেন্দ্রের ‘হুলিয়া জারি’-র অভিযোগে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অনেক যন্ত্রণা, অনেক লাঞ্ছনা, অনেক বঞ্চনা থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ। আমাদের টাকা আটকে রেখেছেন—তার জন্যও ধন্যবাদ। যতই অত্যাচার করুন, আমরা সহযোগিতাই চাই।”


ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না বাংলায়, কেন্দ্ৰকে সহযোগিতার বার্তা দিয়েও হুঁশিয়ারি মমতার
এই বক্তব্যের মধ্যেই তিনি খানিক খোঁচা দিয়েই কেন্দ্রকে মনে করিয়ে দেন দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কথা। বলেন, “রাজ্য ও কেন্দ্রের কাজ ঝগড়া করা নয়—একসঙ্গে কাজ করা।” বিরোধীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, গণতন্ত্রে বিরোধিতা গুরুত্বপূর্ণ।
SIR নিয়ে উত্তেজনা, মৃত্যুমিছিল—দায় নিল না সরকার
এতদিন ধরে SIR প্রক্রিয়া চালু হওয়া মাত্রই রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা উঠে আসছে। শাসকদলের দাবি, বিরোধীরা ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ আতঙ্কে বাড়ি ছাড়ছেন, অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, অনেকে আত্মহত্যায় প্রবৃত্ত হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “বাংলায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। কাউকে দুর্ভোগে ফেলতে দেব না। কোনও অরাজকতা তৈরি হতে দেব না।”


তাঁর কথায়, “আমি কমিউনাল পলিটিক্স করি না, আমি সেকুলার পলিটিক্স করি। আমি সংবিধান মানি, তাই সব ধর্মের মানুষকে সম্মান করি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা অন্য রাজ্যে নাক গলাই না। তাই কেন্দ্র সরকারও রাজ্যের সঙ্গে আলোচনার পথে চলুক। ব্রিটিশ আমলে যেমন হুলিয়া জারি হতো, তেমন কিছু আর নয়।”
বঞ্চনার অভিযোগেও সহাবস্থানের ডাক
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ নতুন নয়। রাজ্যের বকেয়া, প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা—এই অভিযোগ বহুবার উঠেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এবার মমতা কেন্দ্রকে সরাসরি বার্তা দিলেন, সহযোগিতা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বলেন, “যতদিন শ্বাস আছে, ততদিন আশ্বাস থাকবে। বাংলার প্রতি আমার বিশ্বাস ও ভরসা থাকবে।” তাঁর বক্তব্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত—দুই সরকারের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও উন্নয়ন থামানো যাবে না।
ডিটেনশন ক্যাম্প ইস্যু ফের কেন্দ্রবিন্দুতে
রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় গত কয়েক মাস ধরে বারবার উঠে এসেছে ডিটেনশন ক্যাম্প প্রসঙ্গ। বিরোধীরা দাবি করে আসছে, SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রে NRC-র অনুশীলন শুরু হচ্ছে। শাসকদল বারবার জানিয়েছে, বাংলায় এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না।
মমতার বক্তৃতা সেই বক্তব্যকে আরও একবার মজবুত করল। তাঁর কথায়, “সংবিধান ও গণতন্ত্রের কাছে আমরা দায়বদ্ধ। বাংলার মানুষ শান্তিতে থাকুন—এই আমার একমাত্র দায়িত্ব।”








