নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনার মাঝেই ‘যশ’ এর চ্যালেঞ্জ, দ্রুত নবান্নকে তৈরি হওয়ার নির্দেশ মমতার। একে করোনায় রক্ষে নেই আবার দোসর হয়ে আসতে চলেছে ‘যশ’। না, তিনি কোন ব্যক্তি নন প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। যাকে নিয়ে আশঙ্কার দানা বাঁধতে শুরু করেছে বাংলা সহ দেশের পূর্ব প্রান্তের একাধিক রাজ্যে। প্রসঙ্গত দুদিন আগেই দেশের পশ্চিম উপকূলে প্রবল তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘টাউকেট’। কার্যত লণ্ডভণ্ড পশ্চিমের মুম্বাই, গুজরাট সহ একাধিক রাজ্য। বর্তমানে শক্তি কমে গেলেও প্রবল বর্ষণ চলছে উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ডের মত রাজ্যে।
আরও পড়ুনঃ আজ বৈঠকে ব্রাত্য, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক নিয়ে নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
এরই মধ্যে আরব সাগরে ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে নয়া সাইক্লোনের ভ্রূকুটি। এদিকে গতবছরের আমফানের স্মৃতি এখনও টাটকা রাজ্যবাসীর মনে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফের নয়া ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন আমফানের থেকেও শক্তিশালী হতে পারে যশ। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, দীঘা উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে যশ। চলতি সপ্তাহের শেষে পূর্ব ও বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ পরিণত হতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে আর তা আগামী বুধবার আছড়ে পড়তে পারে বাংলা- ওড়িশা উপকূলে। দীঘার কাছে স্থলভাগে প্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে এই যশ- এর। আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা জিকে দাস জানিয়েছেন, উত্তর আন্দামান সাগর ও পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে শনিবার অর্থাত্ ২২ মে একটি নিন্মচাপ তৈরি হবে, যেটা ৭২ ঘণ্টা র মধ্যে প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে পরিণত হতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে।
তাই বিপর্যয় সামলাতে আগাম প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নবান্ন। উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নকে আগাম তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার নবান্নে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি বৈঠক হয়। তার আগেই যদিও উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনকে পরিস্থিতির জন্য তৈরির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশঙ্কা সত্যি হলে কলকাতা লাগোয়া দুই জেলা ও পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা, শঙ্করপুরের মতো সামুদ্রিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলেই সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা ঝড়ের গতি ও গতিপথ প্রসঙ্গে অবগত হতে চাইছেন। এ বিষয়ে সবিস্তারে জানা গেলে, প্রশাসনের পক্ষে আগাম প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হয়। নবান্ন সূত্রে খবর, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে তৈরি রাখতে বলা হয়েছে উপকূলবর্তী সাইক্লোন সেন্টারগুলিকে। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার, পানীয় জল, ওষুধ মজুত রাখতে নির্দেশ। মত্স্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিদ্যুত্ দফতর, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সমস্ত কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
করোনার মাঝেই ‘যশ’ এর চ্যালেঞ্জ, দ্রুত নবান্নকে তৈরি হওয়ার নির্দেশ মমতার। বিশেষ নজর রাখা হয়েছে হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালির মতো অঞ্চলগুলিতে। ঝড় আছড়ে পড়তে পারে কলকাতা লাগোয়া দুই চব্বিশ পরগণায়। আর এই দুই জায়গায় করোনার ভ্রুকুটিও মারাত্মক। ফলে এই দুই অঞ্চলেও বিশেষভাবে রাখা নজর রাখা হয়েছে। আমফানের ভুল আর যাতে না হয় তাই সমস্ত দিক থেকে তৈরি হচ্ছে প্রশাসন।



