কোচবিহারে প্রশাসনিক সভায় দাঁড়িয়ে সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা উন্নত রাখতে রাজ্য পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—“ভীতু হলে চলবে না। প্রো-অ্যাকটিভ হন।” কোচবিহার বর্ডার জেলা হওয়ায় কেন্দ্র ও বিএসএফকে নাম না করে কটাক্ষ করেন তিনি। একইসঙ্গে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে কঠোর অবস্থান নেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোচবিহার জেলা বর্ডার জেলা। আইনশৃঙ্খলা ভালোভাবে দেখে রাখতে হবে। বর্ডার এলাকায় অযথা কোনও হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।” তাঁর বার্তা—এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং বেআইনি কর্মকাণ্ড ঠেকানোর দায়িত্ব রাজ্য পুলিশের। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যাতে কোনওরকম অসামঞ্জস্য না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “রাজ্যের অফিসারদের বলছি, ভীতু হলে চলবে না। মারপিট করতে বলছি না, খুন-খারাপি করতে বলছি না। তবে প্রো-অ্যাকটিভ হোন।” তাঁর মতে, সীমান্ত দিয়ে “ইধার-উধার” প্রচুর লেনদেন হয়, তাই নাকা-চেকিং আরও শক্তিশালী করতে হবে।

এই বক্তব্য দিতে গিয়েই বিজেপিকে নাম না করে কড়া আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যারা বেশি সমালোচনা করে, তারাই এটা খেয়ে যায়! আর দোষ হয় অন্য লোকের। সব পাখি মাছ খায়, দোষ হয় মাছরাঙার!” তাঁর ইঙ্গিত—সীমান্তে বেআইনি ব্যবসার অভিযোগ যাঁরা তোলেন, অনেক সময় তাঁদের ভূমিকা নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়।
এখানেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। রাজবংশী সম্প্রদায়ের উপর এনআরসি নোটিস পাঠানো নিয়ে ফের সরব হন তিনি। কিছু মাস আগে অসম সরকার কয়েকজন বাংলার রাজবংশী মানুষকে এনআরসি নোটিস পাঠায়। সেই প্রসঙ্গ তুলেই মমতা স্পষ্ট বলেন, “অসম সরকারের কোনও অধিকার নেই বাংলার লোককে চিঠি পাঠানোর। রাজ্য পুলিশকে বলছি—অন্য রাজ্য থেকে এসে আমাদের রাজ্যের লোককে যেন গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে না পারে।”


তিনি আরও যোগ করেন, কোনও অপরাধীকে ধরতে এলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে অবশ্যই পূর্বে জানাতে হবে। “ক্রিমিনালকে আমরা কখনও অ্যালাও করব না। কিন্তু সাধারণ মানুষ আর অপরাধী এক নয়”—এই মন্তব্যেও প্রশাসনিক প্রধান রাজ্য পুলিশের দায়িত্ব কতটা তা স্পষ্ট করে দেন।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী ফের উঠিয়ে আনেন এসআইআর ইস্যু এবং বিএলও-বিএলএদের কাজের চাপ প্রসঙ্গ। তিনি জানান, তাঁদের ওপর যে অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপছে, তা বোঝা সামাল দিতে হবে প্রশাসনকেই। তবে কাজ যেন থেমে না যায়, উন্নয়ন যেন ব্যাহত না হয়—আধিকারিকদের সেই বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
কোচবিহারের সভা থেকে কেন্দ্র ও বিএসএফের ভূমিকাকে লক্ষ্য করে তাঁর মন্তব্য আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। সীমান্ত এলাকায় রাজ্য-পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপড়েন রয়েছে। সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশে পরিষ্কার—সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও শৈথিল্য চলবে না। “ভীতু” নয়, সক্রিয়—এই ভাবনাতেই এগোতে হবে রাজ্য পুলিশকে।








