বাড়িতেই চলছে স্যালাইন-অক্সিজেন, প্রয়োজনে হায়দরাবাদে চিকিৎসা, ইঙ্গিত মমতার

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপাতত বাড়িতে চিকিৎসা, প্রয়োজনে হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সোনারপুরের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত বাড়িতেই চিকিৎসা চলবে অভিষেকের। প্রয়োজন হলে তাঁকে হায়দরাবাদে নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

শনিবার সোনারপুরে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তাঁর দিকে পাথর ও ডিম ছোড়া হয় এবং শারীরিক হেনস্থার ঘটনাও ঘটে। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান এবং চিকিৎসার জন্য কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা করা হয়।

প্রথমে বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো গুরুতর পরিস্থিতি নেই। পরে মিন্টো পার্কের আরও একটি বেসরকারি হাসপাতালেও একই মত দেওয়া হয়। সেখান থেকেও তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাসপাতালগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে অভিষেককে ভর্তি না করা হয়। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার হাসপাতাল ও প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

মমতার বক্তব্য, আপাতত অভিষেকের বাড়িতেই স্যালাইন, অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। তবে শারীরিক অবস্থার প্রয়োজন হলে তাঁকে হায়দরাবাদে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হতে পারে। এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে মমতার অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মিন্টো পার্কের হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরীরে কোনও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বুকে সামান্য চোটের দাগ থাকলেও তা উদ্বেগজনক নয়। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে তাঁকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। সোনারপুরের হামলার ঘটনার তদন্ত যেমন চলছে, তেমনই অভিষেককে ঘিরে চিকিৎসা বিতর্কও এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর