নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে টাটা গোষ্ঠীর এন চন্দ্রশেখরণ, সিঙ্গুর ভুলে এগোচ্ছে সম্পর্ক

নতুন শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা জোরদার, নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টাটা সন্স চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরণের গোপন বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরণ-এর বৈঠক ঘিরে রাজ্য জুড়ে নতুন শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবি ও বার্তায় সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। তবে বৈঠকে আসলে কী আলোচনা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বা চন্দ্রশেখরণ কেউই এ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি।

Shamim Ahamed Ads

তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডল থেকে প্রকাশিত বার্তায় লেখা হয়েছে, “শিল্পক্ষেত্রে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আশা করা যায়, এই বৈঠক ভবিষ্যতের বিনিয়োগের এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করবে।” এই বার্তাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাজ্য সরকার টাটা গোষ্ঠীর নতুন বিনিয়োগ টানতে প্রস্তুত। বিশেষত বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের পরে এই বৈঠককে অনেকেই কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন।

চলতি বছরে আয়োজিত বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন (BGBS)-এ টাটা গোষ্ঠীর প্রথম সারির কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। যদিও সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, এন চন্দ্রশেখরণ তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন এবং জানান বিশেষ কারণে তিনি আসতে পারছেন না। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সেই প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতেই এই চার মাস পরের সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা।

স্মরণযোগ্য যে, এক সময় সিঙ্গুর জমি আন্দোলন ছিল টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে মমতার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু। সেই আন্দোলনের জেরে সিঙ্গুর থেকে টাটা মোটরসের প্রজেক্ট গুটিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যা মমতার ক্ষমতায় আসার এক বড় হাতিয়ার হয়েছিল।

তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে মমতা একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন, তিনি টাটা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নন, বরং তৎকালীন সরকারের জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতির বিরোধিতা করেছিলেন। প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি শিল্প উন্নয়নে টাটা গোষ্ঠীর গুরুত্ব স্বীকার করেছেন।

এই বৈঠকের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, টাটা গোষ্ঠী কি এবার আবার পশ্চিমবঙ্গে বড় কোনও বিনিয়োগ করতে চলেছে? যদিও সরকারি স্তরে এখনও কোনও প্রকল্প ঘোষণা হয়নি, তবে নবান্নে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বিনিয়োগ সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলছে বলে মনে করছে শিল্প মহল।

টাটা গোষ্ঠী বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠী। তথ্যপ্রযুক্তি, গাড়ি, স্টিল, বিমান, হোটেল-সহ বহু ক্ষেত্রে তাদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। যদি পশ্চিমবঙ্গে নতুন কোনও প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তবে তা রাজ্যের শিল্পায়নে নতুন গতি আনতে পারে

টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাক্ষাৎ রাজ্য ও শিল্প মহলে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। রাজ্য সরকার যদি এই সম্পর্ককে ধরে রাখতে পারে এবং টাটারা বিনিয়োগে এগিয়ে আসে, তবে বাংলার শিল্পক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। এই মুহূর্তে শুধু প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক স্থিরতা, যা শিল্প গোষ্ঠীদের বিনিয়োগে আস্থা জোগাবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত