নজরবন্দি ব্যুরোঃ কিছু কর্মীর অসহযোগীতার কারণেই নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারতে হয়েছিল। সম্প্রতি একটি ভাইরাল অডিও ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে ভাইরাল অডিওটি তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক সুব্রত বক্সির। কর্মীদের কারণেই হারতে হয়েছে মমতাকে কথাটির মাধ্যমে কাদের বিরুদ্ধে সরব হলেন তিনি?
আরও পড়ুনঃ বীর সন্তানকে স্বাগত জানাতে হাজির থাকবেন শোকতপ্ত পাহাড়বাসী
সম্প্রতি ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কর্মীসভায় এমনটাই মন্তব্য করেছেন সুব্রত বক্সি। সেখানেই তিনি মন্তব্য করেন, “আমাদের দলের কিছু অসহযোগীতার কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিনিধি হতে পারলেন না। কিন্তু আমরা গর্বিত যে ভবানীপুর থেকে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”। এজন্য ভবানীপুরের কর্মীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি। আপাতত এই টোটকাকেই কাজে লাগিয়ে ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত সমস্ত ওয়ার্ডে প্রচার করতে চাইছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরেই বিধানসভা নির্বাচনে এপিসেন্টার হয়ে উঠেছিল নন্দীগ্রাম। যেখানে খোলা মঞ্চ থেকে সুব্রত বক্সির কাছ থেকে নন্দীগ্রাম আসনে লড়াইয়ের জন্য অনুমতি চেয়ে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রতিপক্ষ নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের অনুজ সৈনিক শুভেন্দু অধিকারী। ৫ মে নির্বাচনের ফলাফলে নন্দীগ্রাম আসনে দুই হাজারের কম ভোটে পরাজিত হন মমতা। পরে মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন থাকার জন্য ভবানীপুর উপনির্বাচনে লড়াই করতে হয় মমতাকে।
ভোট কারচুপির অভিযোগ জানিয়ে ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মামলা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। বরং এবিষয়ে মমতার মন্তব্য, আমরা দু’শোর বেশী আসনে জয় করেছি। একটা, দুটো আসনে হারা জেতা নিয়ে আসে যায় না। নন্দীগ্রাম নিয়ে আদালতে যাওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কর্মীদের অসহযোগীতার কথা মমতা মুখে শোনা যায়নি কখনও। বরং বিপুল ভোটে জয়লাভের পর নন্দীগ্রাম নিয়ে তৃণমূল মূল্যায়ন করেনি। কিন্তু কর্মীদের অসহযোগীতার কথা বারবার বলেছেন সুব্রত বক্সি। এবারও সেই কথাই বললেন তিনি। কর্মীদের কারণেই হারতে হয়েছে মমতাকে, নন্দীগ্রাম নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করলেন সুব্রত বক্সি।
কর্মীদের কারণেই হারতে হয়েছে মমতাকে, বিস্ফোরক সুব্রত বক্সি

কিন্তু মমতার বিরুদ্ধে ভুইফোঁড় হয়ে কাজ করলেন কারা? সেই বিষয়ে কেন তদন্ত করেনি তৃণমূল? তাঁদের বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি দল? প্রাক্তন হওয়ার সুবাদে বাড়তি অ্যাডভান্টেজ পেয়েছেন শুভেন্দু?



