নজরবন্দি ব্যুরোঃ দিঘার সৌন্দর্যায়নের গোড়ায় গলতি নিজে হাতে কাগজে এঁকে বোঝালেন মুখ্যমন্ত্রী। সাইক্লোন ইয়াসের দাপটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দিঘার সমুদ্র উপকূল। সৌন্দর্য দিয়ে গড়ে তোলা সি বিচ তচনচ হয়ে গিয়েছে। সেই সৌন্দর্য ফের ফিরিয়ে আনার জন্য ফের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর আজ নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে ফের ছবি এঁকে সৌন্দর্যায়নের গোড়ায় কি গলদ রয়েছে তা বোঝালেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ সরকারের বহু বেআইনি কাজে যুক্ত আলাপন! মুখ্যমন্ত্রীর তৎপরতা নিয়ে মুখ খুললেন শুভেন্দু
ইয়াসের জেরে বিধ্বস্ত দিঘার পুরনো চেহারা ফিরিয়ে আনতে বর্ষার আগেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলতে চায় রাজ্য সরকার। পাশাপাশি, দিঘার সৌন্দর্যায়নের কাজে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয়দের নিযুক্ত করতেও প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার দুপুরে নবান্নে সেচ দফতরের কর্তাদের সঙ্গে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে বসেন মমতা। বৈঠকে দিঘা, সুন্দরবন-সহ রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন তিনি। তবে ইয়াসের জেরে দিঘার সমুদ্রসৈকতের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুত পুনরুদ্ধারে জোর দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ”দিঘার সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনাটাই ভুল ছিল।”
ইয়াসের তাণ্ডবের পর দিঘার সমুদ্র সৈকতের বোল্ডারগুলি উপড়ে পড়েছে। বহু বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। নষ্ট হয়ে গিয়েছে সৈকতে পর্যটকদের বসার চেয়ারগুলিও। যার জেরে সমুদ্রতটের হকারদের আয়ের রাস্তাও কার্যত বন্ধ। দিঘার শ্রী ফেরানোর পাশাপাশি হকারদের জন্য আবাসন দফতর ছাড়াও দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”দিঘায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপার্জন হয়। সৈকতের হকারদের বাড়িগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেগুলি তৈরির জন্য আবাসন দফতর বা দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদকে কাজে লাগাতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দিঘার সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে চায় রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই রাজ্যের তত্কালীন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের প্রধান পদে বহাল করেছেন তিনি। এছাড়া, পর্যটকদের প্রিয় দিঘার চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে পুনর্গঠনের কাজে দায়িত্ব নিতে হবে বলে বৈঠকে মন্তব্য করেন তিনি। শুধু তাই নয় দিঘার পুনর্গঠন ছাড়াও সুন্দরবন, দুই ২৪ পরগনা এবং মেদিনীপুরের ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার।
দিঘার সৌন্দর্যায়নের গোড়ায় গলতি নিজে হাতে কাগজে এঁকে বোঝালেন মুখ্যমন্ত্রী। এই নিয়ে তিনি বলেন, ”প্রতি বছরই লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বাঁধ সারাই হচ্ছে। আবার ভেঙে যাচ্ছে। আমপানের পর ম্যানগ্রোভ লাগানো হলেও সেগুলি কোথায় গেল? অন্তত ১০ বছরের জন্য ঠিকাদারদের জন্য দায়িত্ব দিতে হবে। ভাঙন রুখতে ভেটিভার ঘাস লাগাতে হবে। এ নিয়ে ৩ দিনের মধ্যেই রিপোর্ট চাই।” তাই বর্ষা আসার আগেই দিঘা ফের তার পুরনো চেহারা ফিরে পাবে বলেই মনে করছে দিঘার মানুষ।



