টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। হচ্ছে তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা। ঘর ছাড়া বহু মানুষ। এর মধ্যেই উত্তরবঙ্গ পরিস্থিতি নিয়ে আজ নবান্নে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি বিপর্যয় পরিস্থিতি দায় চাপাল কেন্দ্রের উপর।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, ‘‘সিকিমে লাগাতার বৃষ্টিতে ধস নেমেছে। বহু পর্যটকরা আটকে। তাঁরা যাতে ফিরে আসতে পারেন তার জন্য নির্দেশ দিলো প্রশাসনকে । এবং সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন বর্ষায় পাহাড়ে অ্যাডভেঞ্চার না করাই ভাল। উত্তরবঙ্গের অবস্থা ক্রমেই জটিল হচ্ছে রয়েছে ভূমিধ্বস ও বন্যার আশঙ্কা। এ বিষয়ে সমস্ত রিপোর্ট থেকে এমনটাই জানা যাচ্ছে। প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হল হেল্পলাইন নম্বর। মালদহে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”

কেন্দ্রের উপর তোপ দাগিয়ে এদিন বলেন, ‘‘১০-১২ বছর ধরে দেখছে না। ফরাক্কার ড্রেজিংও করেনি। এদিকে আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করেও কিছু করতে পারছি না। ফরাক্কায় জল ছাড়া হলে আশপাশের বহু এলাকা জলে ভাসে। তুফানগঞ্জে খোলা হয়েছে ত্রাণকেন্দ্র। ২৪ ঘণ্টার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলার ব্যবস্থা হচ্ছে।’’ বিডিও, জেলাশাসকদেরও সচেতন করলেন মমতা। শিফটিং ডিউটির কথাও জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে ছুটি বাতিলের কথাও জানান তিনি। এছাড়াও দুর্গতদের ত্রাণের বিষয়ে এদিন বলেন, ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের ১২ টি ত্রাণকেন্দ্র ও ৬ টি কিচেন খোলা হয়েছে।
পাশাপাশি এই বিপর্যয় পরিস্থিতির জন্য দায় চাপাল কেন্দ্রের উপর। তিনি বলেন, ‘‘সিকিম যখন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হয় , তখন কেন্দ্রের সেবিষয়টি দেখা উচিত ছিল। যার জন্য আজ ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ভুটানের জল এলেই ভাসে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি। এছাড়াও বলেন, “গঙ্গার ভাঙ্গন রোধের জন্য কেন্দ্র থেকে এক পয়সাও বরাদ্দ করা হয়নি। ডিভিসির যখন তখন জল ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় মুর্শিদাবাদ, খানাকুল ও আরামবাগ সহ বেশকিছু এলাকা।”
তিস্তার জল বাংলাদেশকে দিলে উত্তরবঙ্গে কেউ পানীয় জল পাবে না, মোদির পরিকল্পনায় ‘ভুল’ দেখছেন মমতা

বর্ষা এলেই প্রতিবছর কার্যত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় উত্তরবঙ্গ। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। এদিন রেলের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তায় তিনি বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গ থেকে লোক আসার জন্য তোমরা রাজ্যকে ট্রেন ভাড়া দিলে, টাকা দেব। আর যদি ভাড়া না দেন তাহলে সব মানুষকে নিরাপদে নিয়ে আসার দায়িত্ব তোমার। তাহলে ১৮ জুলাই উত্তরবঙ্গের থেকে মানুষ আসতে শুরু করবেন।’’ এছাড়াও তিস্তা চুক্তি নিয়ে এদিন বলেন,”তিস্তার জল দেবে (বাংলাদশকে)। জল রয়েছে যে দেবে? উত্তরবঙ্গে কেউ পানীয় জল পাবেন না।’’



