দেশে বহুদিন কোনও মহিলা প্রধানমন্ত্রী নেই—এই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেন Mamata Banerjee-ই। এমনই মন্তব্য করলেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী Manmohan Singh-এর প্রাক্তন মিডিয়া উপদেষ্টা Sanjaya Baru। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সোমবার এক সর্বভারতীয় দৈনিকের নিবন্ধে বারু লিখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ ‘সেলফ-মেড’ নেত্রী, যিনি নিজের লড়াইয়ে উঠে এসেছেন। বর্তমানে দেশে তিনিই একমাত্র মহিলা নেতা, যিনি একই সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দল ও একটি রাজ্য সরকার পরিচালনা করছেন।
বারুর মতে, একজন মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা—এই দুই গুণই এখন সবচেয়ে বেশি দেখা যায় মমতার মধ্যে। সেই কারণেই দেশের রাজনৈতিক পরিসরে মহিলা নেতৃত্বের শূন্যস্থান পূরণ করতে তিনি সবচেয়ে যোগ্য মুখ হতে পারেন।
নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তিও দিয়েছেন বারু। তাঁর মতে, শাসক দল বিজেপির রাজনৈতিক কাঠামো মূলত পুরুষ-প্রধান। এই পরিস্থিতিতে যদি বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের সামনে একজন শক্তিশালী মহিলা মুখ তুলে ধরা যায়, যিনি স্বাধীন নারী নেতৃত্বের প্রতীক, তবে বিজেপির মহিলা ভোটব্যাঙ্কেও প্রভাব পড়তে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের নজর এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
বারুর নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, কংগ্রেসের প্রচলিত সোনিয়া-মনমোহন মডেলকে নতুনভাবে রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গেকে সামনে রেখে এগোনোর চেষ্টা করা হলেও তা নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে কার্যকর চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। ফলে কংগ্রেস-কেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে আঞ্চলিক শক্তিকে সামনে আনার দাবিও জোরালো হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বারুর মন্তব্য ইন্ডিয়া ব্লকের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন সমীকরণের জল্পনা উসকে দিয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।







