‘গুজবে কান দেবেন না, ধীরে সুস্থে পুজো করুন।’ ছটপুজোর উদ্বোধনে এসে এমনই আবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার তক্তাঘাট ও দইঘাট ঘাটে গিয়ে পুণ্যার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সামনে দু’দিন—সোমবার ও মঙ্গলবার—রাজ্যজুড়ে ছটপুজো উপলক্ষে লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হবে গঙ্গার ঘাটে। তাই আগেভাগেই প্রশাসনিক সতর্কতা নিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি ভয়ে থাকি যাতে কোনওভাবে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়। সবাই যেন ধীরে সুস্থে পুজো করেন।” তাঁর অনুরোধ, কেউ যেন একসঙ্গে গঙ্গায় নামার হুড়োহুড়ি না করেন। “একটা দল উঠে আসার পরেই পরের দল যেন নামে—এই ব্যবস্থাটা ঠিক রাখতে হবে,” প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও নির্দেশ দেন, ঘাটে উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মীদের বিশেষ নজর রাখতে হবে, যাতে কোনও রকম ভিড়ের চাপে বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই সতর্কতা রাজ্য প্রশাসনের কাছে কার্যত নির্দেশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেউ যদি হঠাৎ চিৎকার করে বলেন যে অন্য কোথাও গণ্ডগোল হয়েছে, তাতে কান দেবেন না। এই ধরনের গুজবেই বিপদ ঘটে।” তাঁর বক্তব্য, গুজবের কারণে যদি মানুষ হুড়োহুড়ি শুরু করেন, তাহলে মুহূর্তের মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের কুম্ভ মেলার পদপিষ্ট দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও উঠে আসে। কয়েক বছর আগে কুম্ভে স্নান করতে গিয়ে ভিড়ের চাপে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে মমতা বলেন, “গঙ্গাসাগর মেলায় আমরা বারবার প্রমাণ করেছি যে প্রশাসনিক দক্ষতা ও মানবিক সতর্কতা একসঙ্গে চলতে পারে। কুম্ভে যা ঘটেছিল, আমরা তা থেকে শিক্ষা নিয়েছি।”
ছটপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই হিন্দিভাষী মানুষদের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকে। কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মালদহ সহ একাধিক জেলায় গঙ্গার ঘাটে জনসমাগম হয় লক্ষাধিক। তাই এবারও রাজ্য সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। BMC, KMC, NDRF ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বিভিন্ন ঘাটে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ঘাট এলাকায় ড্রোন নজরদারি, ফ্লাডলাইট ও লাইফগার্ড দলের উপস্থিতি থাকবে সারারাত। পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে তৈরি রাখা হয়েছে অ্যাম্বুল্যান্স ও প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ছটপুজো আমাদের ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক। এই উৎসব একসঙ্গে মিলে করার বার্তা দেয়। তাই গুজবে কান না দিয়ে, ধীরে ধীরে, শান্তভাবে পুজো করুন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তা শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, বরং মানবিক সংবেদনশীলতার প্রকাশ। তিনি বারবার দেখাতে চান, উৎসবের সময় নিরাপত্তাই প্রধান, যাতে আনন্দের আবহ কোনও দুর্ঘটনায় ম্লান না হয়।
রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা কলকাতা ও শহরতলির সব গঙ্গাঘাটে পর্যাপ্ত পুলিশবাহিনী মোতায়েন থাকবে। বিশেষ নজর থাকবে তক্তাঘাট, দইঘাট, বাবুঘাট, বরানগর ও উত্তর কলকাতার ঘাটগুলিতে।
সব মিলিয়ে ছটপুজোকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা একটাই—গুজবে নয়, বিশ্বাস রাখুন প্রশাসনে। পুজো হোক শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদে।








