বৃহস্পতিবার বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের পরেই স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লির বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তিনি জানিয়ে দিলেন—কেন্দ্রীয় সহযোগিতা ছাড়াও রাজ্য নিজের শক্তিতেই সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণের পথে এগোচ্ছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ডিএ বৃদ্ধি, আশা ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভাতা—সব মিলিয়ে এই বাজেট শুধু হিসাবের খাতা নয়, ভোটের মুখে এক দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থানও।
বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। তাঁর অভিযোগ, “কেন্দ্রীয় বাজেট দিশাহীন, কর্মহীন। বাংলার জন্য কিছুই নেই।” সেই প্রেক্ষিতেই তিনি বলেন, এত বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। “আমি একা নই, সকলে মিলেই করেছি,”—এই মন্তব্যে দলগত প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগকে আরও জোরালো করতে মমতা টেনে আনেন ‘শুয়োরানি-দুয়োরানি’র উপমা। তাঁর দাবি, বাংলা নানা ভাবে কোণঠাসা হচ্ছে—কখনও আর্থিক বরাদ্দে, কখনও রাজনৈতিক নিপীড়নে। বাংলাদেশি তকমা দিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের মারধর, এমনকি অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “টাকা দিচ্ছে না, উল্টে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে।”
তবে অভিযোগের মধ্যেই সরকারের কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেন মমতা। জানান, ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য জুড়ে রাস্তা, পানীয় জল প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হওয়ার কথাও জানান তিনি। বেকারত্ব প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় রিপোর্ট উদ্ধৃত করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব কমেছে ৪৫ শতাংশেরও বেশি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ১ কোটি ৭২ লক্ষ মানুষকে দারিদ্রসীমা থেকে বার করে আনা সম্ভব হয়েছে।
বাজেটে নতুন প্রকল্পের সংখ্যার দিকেও নজর দেন মমতা। জানান, এতদিন রাজ্যে ছিল ৯৪টি প্রকল্প, এবারের বাজেটে নতুন করে পাঁচ-ছ’টি যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের সংখ্যা ‘সেঞ্চুরি’ ছুঁল। পাশাপাশি আগামী অগস্ট থেকে ২১–৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ বেকারদের জন্য মাসে ১৫০০ টাকা ভাতার ঘোষণার ব্যাখ্যাও দেন তিনি। স্পষ্ট করেন, এই ভাতা স্কলারশিপের পাশাপাশি মিলবে, পাঁচ বছরের জন্য।


অন্য দিকে বাজেটের আর্থিক দিক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অমিত মিত্র জানান, রাজ্যের বাজেটের আকার এবার ৪ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে—যা তিনি “অভূতপূর্ব” বলে উল্লেখ করেন। মমতার অভিযোগ, কেন্দ্রের কাছে এখনও রাজ্যের প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। সেই পাওনা না মেলাতেই রাজ্যকে নিজেদের মতো করেই পথ চলতে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই বাজেট শুধুই অর্থনীতির নয়—রাজনৈতিক বার্তারও। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ, সামাজিক প্রকল্পে জোর, আর ভোটের মুখে জনভিত্তি দৃঢ় করার কৌশল—সব কিছু মিলিয়ে মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট, লড়াইটা দিল্লির বিরুদ্ধেই।








