নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভোটের আগে তিন জেলায় নাগরিকত্ব প্রদান করে সিএএ নিয়ে জল্পনা বাড়িয়েছে বিজেপি। সেই পালে হাওয়া দিয়ে বাংলায় সিএএ লাগু করার দাবি তুলছেন রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব। বুধবার নেতাজী ইন্ডোরের এক অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে ফের সিএএ নিয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। সময় বের করে দেখুন নামটা আছে কি না।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর বাড়বাড়ন্ত, বিধানসভায় হিসাব দিতে বাধ্য হলেন মুখ্যমন্ত্রী
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তালিকায় অনেকের নামের বানান ভুল থাকে। এই সুযোগে নাম বাদ দিতে পারে। এইভাবেই আপনাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা হবে। অধিকার ছাড়বেন না। নাম না করে বারবার বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধেও তোপ দাগতে পিছপা হননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বলা হচ্ছে নাগরিকত্ব দেব, অধিকার দেব। আরে তুমি যাদের ভোটে প্রধানমন্ত্রী হয়েছো। নাগরিক না হলে তারা ভোট দিল কী করে? তাদের আধার কার্ড আছে, ভোটার কার্ড আছে। তারা চাকরি, ব্যবসা, লেখাপড়া করছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতে পূর্ব পাকিস্তানকে বাংলাদেশ নামকরণ হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, চুক্তিই রয়েছে, যারা ওই সময়ের আগে এসেছে, তাঁরা এদেশের নাগরিক। তাহলে এখন আবার নতুন করে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রশ্ন আসছে কেন?
পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের যুক্তি দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ হয়েছে। তাই লাগু তো হবেই। এমনকি এর আগে সিএএ ইস্যুতে রাজ্যজুরে যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দিকেই তোপ দাগলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। তাঁর কথায়, গুজরাতে লাগু হয়েছে, এবার বাংলাতেও লাগু হবে।
আপনাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা হবে, মমতার মুখে ফের সিএএ প্রসঙ্গ

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, লোকসভা নির্বাচনের পর বিধানসভা নির্বাচনেও সিএএ এর হাওয়া তুলে মতুয়া ভোট পেয়েছিল বিজেপি। এখন ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে একইভাবে সিএএর হাওয়া তুলে ভোট দখলে মরিয়া গেরুয়া শিবির। পাল্টা প্রতিহত করতে চায় ঘাসফুল শিবির।



