নজরবন্দি ব্যুরো: লোকসভার আগে সেমিফাইনাল পর্বে বিজেপির জয়জয়কার। তিন রাজ্যে শাসক দলের ক্ষমতায় এসেছে তারা। এর ফলে আগামী লোকসভা নিয়েও মনোবল বাড়ছে। সোমবার বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বিজেপির জয় ও কংগ্রেসের পরাজয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন। পাশাপাশি আরও একাধিক ইস্যুতে কথা বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘২০২৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে না যদি আসন সমঝোতা হয়। ভোটের রেজাল্ট দেখছিলাম। কংগ্রেস দুটো হারিয়েছে। একটা পেয়েছে। কংগ্রেস পেয়েছে ৩৯ শতাংশ ভোট, বিজেপি ৪২ শতাংশ। এই ভোট কাটাকাটির জয়, ফাটাফাটির নয়।’ তাঁর কথায়, ‘এই ফল মানুষের পরাজয় নয়, কংগ্রেসের পরাজয়।’ গতকাল ফল প্রকাশের পরই তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘তিন রাজ্যে এটা যত না বিজেপির সাফল্য, তার চেয়ে বেশি কংগ্রেসের ব্যর্থতা। ভিন রাজ্যে জিততেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্কিমগুলি নকল করেছে অন্য দল। লোকসভা ভোটে এর প্রভাব পড়বে না। মিলিত ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের প্রভাব থাকবে। দেশে বিজেপিকে হারানোর লড়াইতে নেতৃত্ব দেওয়ার দল তৃণমূল কংগ্রেস।’

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন। এদিন সকালে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তিনি বলেন, ‘যাঁরা জয়ী, তাঁদের শুভেচ্ছা। পরাজিতদের বলব, ভুল সংশোধন করে পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী হয়ে লড়াই করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম দিন থেকে বলছি যে যেখানে শক্তিশালী তাঁকে সেখানে লড়তে দিতে হবে। সেটা করলেই হয়তো এই বিপর্যয় হত না।’ তৃণমূল সাংসদ কংগ্রেসের ‘একলা চলো’ নীতিকে দায়ী করেছেন।

কংগ্রেসকে ভুল সংশোধন করার বার্তা দিয়ে নিজেদের ভুলের কথাও উল্লেখ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘আমরাও তো নিজেদের ভুল থেকে শিখেছি। শিক্ষা নিয়েছি। ২০১৯-এ ভালো ফল হয়নি। কোথায় কী ভুলত্রুটি ছিল তা বুঝে একুশে পদক্ষেপ নিয়েছি। জয় পেয়েছি।’
‘বেল পাকলে কাকের কী?’ ৩ রাজ্যে BJP-র জয় নিয়ে চিন্তিত নন মুখ্যমন্ত্রী, ইন্ডিয়া জোট নিয়ে কী বার্তা মমতার?

উল্লেখ্য, তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ তথা দলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, “দুঃখের বিষয়, উত্তর ভারতে কংগ্রেসের একটাও ডিকে শিবকুমার নেই। কংগ্রেস তৈরি করতে পারেনি। পারলেও ধরে রাখতে পারেনি। বহুক্ষেত্রে ইগো ছেড়ে বাস্তবতাকে বুঝতে শিখতে হবে।”



