নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গ থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন Mamata Banerjee। এনআরসি ইস্যুতে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি—“আমি থাকতে বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প হতে দেব না।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ও ময়নাগুড়ির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর পর এবার কেন্দ্র এনআরসি চালু করার পরিকল্পনা করছে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে এবং বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে ভোটার তালিকা থেকে।


ভোটার তালিকা নিয়ে সাম্প্রতিক বিভ্রাট প্রসঙ্গেও সরব হন তিনি। অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নিজের নামই দেখতে পাননি তিনি। পাশাপাশি দাবি করেন, বহু বৈধ ভোটারের নাম ‘ইচ্ছে করে’ বাদ দেওয়া হচ্ছে। “কোথায় সেই তালিকা? ৮ লক্ষ নাম বাদ, ১৯ লক্ষ নতুন নাম—সব কিছুই প্রশ্নের মুখে,” মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রকে নিশানা করে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, “হাঁদা-ভোঁদা দুই ভাই”—এবং অভিযোগ তোলেন, দেশ বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
শুধু এনআরসি নয়, বাংলাকে ভাগ করার চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গকে আলাদা করে নতুন রাজ্য গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।


একইসঙ্গে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তৃণমূল সরকার কী কী করেছে, তা তুলে ধরেন মমতা। দুয়ারে সরকার, দুয়ারে স্বাস্থ্য, কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ একাধিক প্রকল্পের উল্লেখ করে বলেন, “আমরা কথা রাখি, মানুষকে পরিষেবা দিই।”
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন তিনি। পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে মেরুকরণের রাজনীতির অভিযোগ তুলে সম্প্রীতির বার্তা দেন—“আমরা সব ধর্মকে নিয়ে চলি, একসঙ্গে উৎসব করি।”
সবশেষে তাঁর স্লোগান—“বাংলা দখল করে দিল্লি দখল করব”—স্পষ্ট করে দেয়, আসন্ন নির্বাচনে লড়াই কতটা তীব্র হতে চলেছে।







