উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ে প্রাণপণ কাজ, সরকারি কর্মীদের সম্মান জানাতে বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী মমতার

উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ে বীরদের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের প্রতি এবার বিশেষ সম্মান জানাবে রাজ্য সরকার।

উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যেও যে সমস্ত সরকারি কর্মী—দমকল বাহিনী, এসডিআরএফ, পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, ইঞ্জিনিয়ার ও চিকিৎসকরা—মানুষ বাঁচাতে প্রাণপণ পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের রাজ্য সরকার এবার বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করবে। এই উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে।

ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন এই বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে। এই ঘোষণা রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ে প্রাণপণ কাজ, সরকারি কর্মীদের সম্মান জানাতে বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী মমতার
উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ে প্রাণপণ কাজ, সরকারি কর্মীদের সম্মান জানাতে বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী মমতার

দার্জিলিং থেকে সরাসরি তদারকি করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়:
বিপর্যয়ের পর রাজ্যজুড়ে ত্রাণ ও পুনর্গঠনের কাজ চলছে জোরকদমে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি সোমবার ফের যাবেন উত্তরবঙ্গে। এবার দার্জিলিং থেকেই বিপর্যয় তদারকি করবেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “আমি নিজেই মিরিকের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছি। দার্জিলিং থেকে কালিম্পং ও মিরিকের পুনর্গঠন কাজ পর্যালোচনা করব। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রাজ্য সরকার আছে।”

রাজ্যের তরফে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দফতরের সমন্বয়ে দ্রুত পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আলিপুরদুয়ার, নাগরাকাটা, কালিম্পং, মিরিক—এই সব এলাকায় তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন।

ডিভিসি জলাধার ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি তৃণমূলের:
এদিকে, লাগাতার ডিভিসি (DVC)-র জলাধার থেকে জল ছাড়ার জেরে পশ্চিমবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস এবার সরব হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী ১১ অক্টোবর মাইথন জলাধার ঘেরাও কর্মসূচি নিতে চলেছে দলটি। মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, “ডিভিসি-র জলে বারবার বাংলায় বন্যা হচ্ছে। এবার মানুষকে নিয়ে প্রতিবাদ হবে।”

তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে পাঞ্চেত জলাধার ঘেরাও কর্মসূচিও নেওয়া হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে সরব হতে চাইছে, কারণ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি—“ডিভিসি যদি সময়মতো জল ছাড়ত না, তাহলে বিপর্যয়ের এই মাত্রা হতো না।”

প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা:
রবিবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আবারও ঘোষণা করেন, দুর্যোগের সময় যাঁরা অসামান্য সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের রাজ্য সরকার পুরস্কৃত করবে। তিনি বলেন, “দমকল, সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ, ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে চিকিৎসক—সবাই দুর্দান্ত কাজ করেছেন।”

মমতা আরও জানান, আটজন কর্মীকে ইতিমধ্যেই রাজ্যের তরফে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বাকি যাঁরা প্রশংসনীয় ভূমিকা নিয়েছেন, তাঁদেরও সম্মানিত করা হবে।

ভুল ব্যাখ্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ:
উত্তরবঙ্গ যাওয়ার আগে এয়ারপোর্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমার কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আমি রাজনীতি করতে আসিনি, কাজ করতে এসেছি। জল নামার আগেই ইভাকুয়েশন করা হয়েছিল, তাই বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সব আলু আমরা কিনে নিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা শস্যবীমা পাবেন। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁদের আমি ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

তদারকি ও পর্যালোচনায় ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী: রবিবার আলিপুরদুয়ারের হাসিমারায় প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি সেখানেই রাত কাটাবেন। পাহাড়ি পথের কারণে রাতে চলাচল সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
“আগামীকাল নাগরাকাটা ও আশপাশের এলাকায় যাব। কাজ শেষ হতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে, তারপর আমি উত্তরকন্যায় ফিরে আসব,” বলেন মমতা।

রাজ্য সরকারের সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা ও পুনর্গঠনের গতি বৃদ্ধি করা।

উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়: সরকার ও প্রশাসনের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ত্রাণ, রাস্তা মেরামত, বিদ্যুৎ ও জল পরিষেবা পুনরুদ্ধার—সবক্ষেত্রেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ইতিমধ্যেই দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

মমতার এই ঘোষণা রাজ্যজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনিক মহল বলছে, বিপর্যয়ের সময় সরকারি কর্মীদের সম্মাননা কেবল পুরস্কার নয়, এটি তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি সরকারের কৃতজ্ঞতার প্রতীক।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত