দার্জিলিং জেলার মিরিকের দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার প্রশাসনের তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করলেন। বিপর্যয়ের পর দ্রুত পুনর্গঠন ও ত্রাণ কার্য চালাতে রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতর একযোগে কাজ করছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমাদের সিভিল অ্যাডমিন দারুণ কাজ করেছে। এত দ্রুত পুনর্গঠনের কাজ অন্য কেউ করতে পারবে না।”
মিরিক ও দুধিয়া এলাকার সড়ক ও সেতু মেরামতের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। পূর্ত দফতরের তত্ত্বাবধানে দুধিয়াতে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ চলছে, যা আগামী ৭ দিনের মধ্যেই তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস:
“যাঁরা এই দুর্যোগে সব হারিয়েছেন, তাঁদের পাশে রাজ্য সরকার আছেন। চিন্তা করবেন না, সাত দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ এবং চাকরির নিয়োগ হবে,” বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, জেলা প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা বিলম্ব না হয়।
ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সর্বাত্মক উদ্যোগ।
প্রতিটি দুর্গত এলাকায় চালু করা হয়েছে কমিউনিটি কিচেন—যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা বিনামূল্যে খাবার পাচ্ছেন। চালু করা হয়েছে স্বাস্থ্য শিবির ও নথি পুনরুদ্ধার ক্যাম্প, যাতে যাঁদের পরিচয়পত্র বা জমির কাগজপত্র হারিয়েছে, তাঁরা সহজে নতুন নথি পেতে পারেন। নাগরকাটার দুর্গম এলাকাতেও ব্যক্তিগতভাবে গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মৃতদের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী।
মিরিকের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিজেন্দ্র রাই (৬৫), উষা রাই (৬০) ও সাতমা লামা (৩৫)। তাঁদের বাড়িতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শোকপ্রকাশ করেন ও পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “এই কঠিন সময়ে সরকার তাঁদের পাশে আছে। প্রয়োজনীয় সব সাহায্য দেওয়া হবে।”
নতুন পর্যটন কেন্দ্র তৈরির ঘোষণা।
দুর্যোগের মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রী জানালেন ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা। পশুপতি ফাটকের কাছে লামাহাটার আদলে নতুন একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেন তিনি। সেখানে থাকবে শ্যুটিংয়ের সুযোগ, হোমস্টে ও স্থানীয় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। আগামী এক বছরের মধ্যেই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পশুপতি ফাটকের এলাকা আলাদা করে সাজানো হবে। পর্যটন বাড়লে স্থানীয়দের কাজের সুযোগও বাড়বে।”
পুরো প্রশাসন এখন একসঙ্গে মাঠে।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাসক, জেলা পুলিশ সুপার, বিভিন্ন দফতরের সচিব ও শীর্ষ আধিকারিকরা। প্রশাসনের তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুত গতিতে চলছে রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ ও পানীয়জল সংযোগ পুনর্গঠনের কাজ।
সংকটের সময়ে আশার আলো ছড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
একদিকে বিপর্যস্ত মানুষের চোখে জল, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপ মিরিকবাসীর মনে ফিরিয়ে এনেছে নতুন ভরসা। আগামী সাত দিনের মধ্যেই সেতু তৈরি থেকে শুরু করে ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ব্যবস্থা বাস্তবে রূপ নেবে—এমনই প্রত্যাশা এখন পাহাড় জুড়ে।






