ভোটের আবহে উন্নয়ন আর রাজনৈতিক বার্তার যুগলবন্দি। সিঙ্গুরের সভামঞ্চ থেকে ভার্চুয়ালি বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান-এর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পকে ঘিরে ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হল বলেই দাবি রাজ্য সরকারের। উদ্বোধনের পাশাপাশি ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। সভা থেকেই কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।
সিঙ্গুরের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“আমি কথা দিলে কথা রাখি। আর আঘাত করলে কালবৈশাখী হয়।”
কেন্দ্রকে নিশানা করে তাঁর অভিযোগ, “দিল্লি এক পয়সাও দেয় না। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য কেন্দ্র টাকা দেয়নি। তাই ওরা শুধু মানুষকে বোকা বানিয়েছে, আমরা রাজ্যের টাকাতেই কাজ শুরু করলাম।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এ দিন রাজ্য জুড়ে ১,০০০-র বেশি পরিষেবার উদ্বোধন হয়েছে। মোট বরাদ্দের অঙ্ক প্রায় ৩৩,৫৫১ কোটি টাকা। শুধু ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পেই ২০ লক্ষ মানুষের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষের ঘর তৈরির অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘাটালের সাংসদ দেব আবেগঘন ভাষায় বলেন,
“দিদি যে কাজটা করলেন, সেটা কোনও সোজা ব্যাপার নয়। আমি ১২ বছরের সাংসদ। এই ফাইলটা প্রতিটা সরকারের টেবিলে ঘুরেছে, কিন্তু কেউ কাজ করেনি। দিদি কথা দিয়েছিলেন, বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা রেখেছিলেন, আজ সেই কাজ শুরু হল। যিনি কথা রাখেন, তিনিই মানুষের ভোট পান।”
দেব আরও জানান, কেন্দ্রের একাধিক দরজায় কড়া নেড়েও ঘাটালের জন্য কোনও বরাদ্দ মেলেনি।
সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করেন জমি আন্দোলনের দিনগুলির কথাও। তাপসী মালিক-সহ আন্দোলনকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আপনারাই আমাদের প্রেরণা।” পাশাপাশি ফুরফুরা শরিফ, জয়রামবাটীর উন্নয়ন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ওরা শুধু ফিতে কাটে, আমি কাজ করে দিয়েছি।”
এসআইআর ইস্যুতেও কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “এসআইআরের নামে এনআরসি করার চক্রান্ত চলছে।” প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে সভামঞ্চ থেকেই দুটি কবিতা পাঠ করেন তিনি—‘স্যার’ ও ‘আতঙ্ক’। বার্তা স্পষ্ট, কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে তিনি প্রস্তুত।
সব মিলিয়ে, জমি আন্দোলনের আঁতুড়ঘর সিঙ্গুর থেকেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের সূচনা করে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক বার্তার স্পষ্ট সমীকরণ টেনে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্র বনাম রাজ্যের সংঘাতে ভোটের আগে এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।



