এসআইআর (Special Intensive Revision) ঘিরে রাজ্য-রাজনীতির উত্তাপ এবার ছড়াতে চলেছে রাজধানীতেও। এই আবহেই বুধবার দিল্লি যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় প্রথম দিন থেকেই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-কে পাঁচটি চিঠি লিখে নিজের আপত্তি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে এই দিল্লি সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা—এবার কি আন্দোলন পৌঁছবে সর্বভারতীয় মঞ্চে?
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “এসআইআর-এর বিপদের কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু বাংলায় নয়, গোটা দেশের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি দিল্লি যাচ্ছেন মানে বিষয়টি জাতীয় স্তরে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।” তৃণমূল শিবিরের বক্তব্য, এসআইআর-এর নামে বৈধ ভোটারদের নাম ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।

অন্যদিকে, বিজেপি এই সফরকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “রাজ্যেই আর ওঁর কথা শোনার কেউ নেই। এসআইআর-বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন দিল্লিতে গিয়ে ফাঁকা মাঠে বসে কী করবেন, সেটাই প্রশ্ন।”
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয় গত ৪ নভেম্বর। ওই দিনই কলকাতার রাস্তায় মিছিলে হাঁটেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিল শেষে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সামনে সভা থেকে অভিষেক ঘোষণা করেন, “নেত্রীর অনুমতি নিয়ে বলছি, একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে দিল্লিতে এক লক্ষ মানুষকে নিয়ে যাব।”
তৃণমূল সূত্রের দাবি, এসআইআর ইস্যুকে রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় স্তরে তুলে ধরাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে চায় শাসকদল। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে কর্মসূচি বা সর্বভারতীয় বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা—সব কিছুর সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক মহল।


সব মিলিয়ে, এসআইআর ঘিরে যে সংঘাত এতদিন বাংলার রাস্তায় সীমাবদ্ধ ছিল, তা এবার রাজধানীতে কতটা ঝাঁজালো রূপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে জাতীয় রাজনীতি।








