ভোটের লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই কৌশল বদলে জঙ্গলমহলের দিকে নজর বাড়াচ্ছে শাসকদল। রবিবার পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় পরপর জনসভা করে সরাসরি ভোটারদের কাছে বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—‘অশান্তির দিন শেষ, তৃণমূলই ফিরিয়েছে শান্তি’। দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই জেলা তৃণমূলের কাছে চ্যালেঞ্জের জায়গা, তাই ভোটের আগে নিজেই মাঠে নেমে সংগঠন চাঙ্গা করার চেষ্টা নেত্রীর।
রবিবারের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথমে পুরুলিয়ার মানবাজারে জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কেন্দ্র থেকেই তৃণমূল প্রার্থী করা হয়েছে সন্ধ্যারানি টুডুকে, তাঁর সমর্থনেই প্রচারে নামেন মুখ্যমন্ত্রী। সভামঞ্চ থেকে জঙ্গলমহলের অতীত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,
“আগে বিকেলের পর কেউ বাড়ির বাইরে বেরোতে পারত না। জঙ্গলে বন্দুকবাজদের দাপট ছিল, মানুষের মনে ভয় ছিল।”
তিনি দাবি করেন, একসময় বছরে প্রায় ৪০০টি খুনের ঘটনা ঘটত এই অঞ্চলে। কিন্তু তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমাদের সরকার জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরিয়েছে।”
এরপর বাঁকুড়ার রাইপুরে সভা করার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী ঠাকুরমনি সরেনের সমর্থনে প্রচার করবেন তিনি।
পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া—এই দুই জেলাই ঐতিহাসিকভাবে তৃণমূলের জন্য কঠিন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। একাধিক নির্বাচনে এখানে ধাক্কা খেয়েছে শাসকদল। তাই এবারের ভোটে এই অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জঙ্গলমহলকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রচার কেবল প্রার্থী সমর্থন নয়, বরং উন্নয়ন বনাম অতীত অশান্তির বর্ণনা তুলে ধরে ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশল।
সভা শেষে তিনি খড়্গপুরে গিয়ে রাত্রিবাস করবেন বলেও জানা গেছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ধারাবাহিকভাবে প্রচার জোরদার করতে চাইছে তৃণমূল।



