বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হল। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদ পেরিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০১১ সালে রাজ্যের ক্ষমতায় এসে টানা তিন মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
এখন তাঁর সামনে লক্ষ্য— ভারতের দীর্ঘতম মুখ্যমন্ত্রিত্বের রেকর্ডধারী জ্যোতি বসু।
বিধান রায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদ ছিল ১৪ বছর ১৬১ দিন।
রাজ্যের উন্নয়ন, প্রশাসনিক সাফল্য ও জনমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময়কাল অতিক্রম করেছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন,
“আজকের দিনটি ঐতিহাসিক। শ্রদ্ধেয় বিধানচন্দ্র রায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়সীমা অতিক্রম করে ইতিহাস গড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সামনে তাঁর অপেক্ষায় জ্যোতি বসুর রেকর্ড।”
২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসন শেষ করে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস।
মানুষের ভোটের রায়ে বাংলার প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর নেতৃত্বে রাজ্য জুড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অবকাঠামো এবং গ্রামীণ উন্নয়নে নজিরবিহীন অগ্রগতি হয়েছে।
গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্রই মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ‘দুয়ারে সরকার’, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘কন্যাশ্রী’, ‘স্বাস্থ্য সাথী’সহ একাধিক প্রকল্প জনমনে সাড়া ফেলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বাংলার ‘নব রূপকার’।
যেভাবে বিধানচন্দ্র রায় আধুনিক কলকাতার স্থপতি হিসেবে পরিচিত, তেমনি প্রশাসনিক দক্ষতা ও মানবিক উদ্যোগে রাজ্যের নতুন চেহারা গড়ে তুলেছেন মমতা।
কুণাল ঘোষ বলেন,
“২০১১ থেকে ২০২৫— এই সময়কালে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বাংলার উন্নয়ন করেছেন, তা নজিরবিহীন।
আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবারও মুখ্যমন্ত্রী হবেন তিনি।
সেই সময় জ্যোতি বসুর ২৩ বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বের রেকর্ডও ভেঙে দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা তিন মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর জনপ্রিয়তা, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক সংগঠন এখন আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে তিনি কি সত্যিই জ্যোতি বসুর ২৩ বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বের রেকর্ড ভাঙতে পারবেন কিনা।
বিধানচন্দ্র রায়ের পর বাংলায় এই ধরনের স্থায়ী নেতৃত্ব আগে দেখা যায়নি।
মমতার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও জনসংযোগ ক্ষমতা তাঁকে এই রেকর্ডের পথে পৌঁছে দিয়েছে।
এখন রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি— তিনি কি সত্যিই ভারতের দীর্ঘতম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়বেন কিনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং রাজ্যজুড়ে জনমুখী প্রকল্পের প্রভাব তাঁকে আগামীর রেকর্ড গঠনে সহায়তা করবে।
বাংলার রাজনীতিতে এ যেন এক নতুন অধ্যায়— ‘বিধানের পর মমতার যুগ’।”








