নির্বাচনের সংবেদনশীল সময়ে ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর (Special Intensive Revision) পদ্ধতির মধ্যেই নিয়ম ভেঙে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে—এই অভিযোগ তুলে দিল্লি সফরের ঠিক আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার গ্যানেশ কুমারকে তিন পাতার কড়া চিঠি পাঠালেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট দাবি, আইনগত ক্ষমতা ছাড়াই এই পদ সৃষ্টি করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ছলচাতুরির চেষ্টা চলছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।
রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহে পরপর ছ’বার নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিটি চিঠিতেই কমিশনের একাধিক কার্যপদ্ধতির ত্রুটি তুলে ধরে জনস্বার্থে হস্তক্ষেপের আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত একটিরও উত্তর মেলেনি—যা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রেক্ষাপটেই রবিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে ফের আক্রমণ শানালেন তিনি।

চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন, ১৯৫০ সালের Representation of the People Act এবং ১৯৬০ সালের Registration of Electors Rules অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাইয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব শুধুমাত্র ERO ও AERO-দের। কিন্তু এই আইনের কোথাও ‘মাইক্রো অবজার্ভার’ নামে কোনও পদ বা নজরদারি ব্যবস্থার উল্লেখ নেই। তা হলে কোন আইনের আওতায় কমিশন এই নিয়োগ করছে—এই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, মাইক্রো অবজার্ভারদের কাজের নির্দিষ্ট পরিধি নেই। ফলে তাঁদের রিপোর্ট বা মন্তব্যের ভিত্তিতে যদি কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যায়, তা হলে তা আইনসঙ্গত হবে না। চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন না করা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নতুন কোনও পদ সৃষ্টি করার এক্তিয়ার নেই।
এর আগেও শুক্রবার রাতে কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে কাউন্সিলর ও BLA-2 দের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। বৈঠকে তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল—মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের কোনও আইনি ভিত্তি নেই, তাই তাঁদের নির্দেশ বা পর্যবেক্ষণ মানার প্রয়োজন নেই।


রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এই টানাপোড়েন ক্রমশ বড় সাংবিধানিক প্রশ্নের দিকে যাচ্ছে। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।
‘আইন নেই, তবু নিয়োগ!’ মাইক্রো অবজার্ভার ইস্যুতে কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক চিঠি মমতার











