২০২৬ বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ২১৯+, বিজেপি সর্বোচ্চ ৫০: মমতা বন্দোপাধ্যায়

ভোটের সাত মাস আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মবিশ্বাসী দাবি, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের আসন বাড়বে। বিজেপি কোনওভাবেই ৫০ ছুঁতে পারবে না, জানালেন অভিষেকও।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) নিয়ে এবার সরাসরি আসনসংখ্যার ভবিষ্যদ্বাণী করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৯-এর বেশি আসন পাবে। তাঁর দাবি, বিজেপি কোনওভাবেই ৫০-এর বেশি আসন পাবে না।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য
মমতার পাশাপাশি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ও একই দাবি করেন। তাঁর কথায়, বিজেপি হয়তো ৫০ ছুঁতেও পারবে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২১ সালে তৃণমূল ২১৩ আসন জিতেছিল, যা উপনির্বাচন ও দলবদলের ফলে আরও বেড়ে হয় ২১৯। এবার সেই সংখ্যাও ছাপিয়ে যাবে।

মমতার বক্তব্য
মমতা বলেন, “বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমি তৃণমূল ছাড়েনি, ছাড়বেও না। মানুষের আশীর্বাদ, দোয়া আর জয় জোহারে তৈরি হয়েছে তৃণমূল। আগামী নির্বাচনে আরও সিট বাড়বেই, কারণ আমরা মানুষের উন্নয়ন করি, আরও করব।”

কেন আসন বৃদ্ধির দাবি?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘোষণা কেবল আত্মবিশ্বাস নয়, দলের কর্মীদের মধ্যে উজ্জীবন আনার কৌশলও বটে। তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, রাজ্যে এমন বাড়ি নেই যেখানে সরকারি পরিষেবার কোনও না কোনও সুবিধাভোগী নেই। বিশেষ করে মহিলা ও সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক মমতার সবচেয়ে বড় ভরসা। তৃণমূলের সংগঠন বুথস্তরে এখনও অপ্রতিরোধ্য, যেখানে বিজেপি-সহ বিরোধীরা সাংগঠনিকভাবে দুর্বল।

বিরোধীদের পাল্টা যুক্তি
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ২০২৬ সালের ভোটে তৃণমূলকে ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার চাপ বহন করতে হবে। বামফ্রন্টের মতো দীর্ঘ শাসন না হলেও, ভোটারদের একাংশ ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি’ ফ্যাক্টরে প্রভাবিত হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গ
সেই দিনই নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ললিপপ সরকার প্রশাসনিক আধিকারিকদের ভয় দেখাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আসে আর যায়, কিন্তু রাজ্য সরকার থেকে যায়। গায়ের জোরে কিছু হবে না।” অনেকের মতে, আসন বৃদ্ধির ঘোষণা করে তিনি প্রশাসনকেও বার্তা দিয়েছেন যে, নির্বাচনের পরে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন তিনি।

রাজনৈতিক গুরুত্ব
এই মন্তব্য শুধু ভোটের পূর্বাভাস নয়, বরং বিরোধীদের মনোবলে আঘাত করার প্রচেষ্টা। মমতার আত্মবিশ্বাস ঘাসফুল শিবিরে উৎসাহ জোগাচ্ছে, বিপরীতে বিজেপির সংগঠনিক সমস্যাই তুলে ধরছে। ফলে সাত মাস আগে থেকেই ২০২৬-এর ভোট রাজনীতির প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত