নজরবন্দি ব্যুরো: হ্যান করেঙ্গা ত্যান করেঙ্গা বলে শুধু মিথ্যে স্বপ্ন দেখায় বিজেপি, আর মূর্তি ভাঙে বাংলায়: পুরুলিয়ায় মমতা। হুইলচেয়ারে বসেই জঙ্গল মহল দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একের পর এক সভা করছেন ঝাড়গ্রাম থেকে পুরুলিয়া। নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তে বুস্টার ডোজ দিচ্ছেন নিজের কর্মী সমর্থকদের। যাঁরা ভরসা রেখেছেন মমতা তে। এবং আরো স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন আগামী ৫ বছরের জন্য কেনো মমতা? সোমবার বাঁকুড়ায় জনসভা করেছেন, মঙ্গলবার করবেন পুরুলিয়ায় মোট তিন বিধানসভা কেন্দ্রে তিনটি সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ সামান্য স্বস্তি, টানা ১২ দিন পর দেশে করোনার দৈনিক সংক্রমণে কমে চল্লিশ হাজার।


তারই প্রথম সভা করছেন পারা বিধানসভা কেন্দ্রে। এরপর তিনি যাবেন কাশীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে শেষে রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকার গোবাগে। একেবারে প্রথম দিনেই নির্বাচন আছে পুরুলিয়ার সবকটি আসনেই। তার আগে একেবারে শেষমুহূর্তের বার্তা দিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কয়েকদিন আগেই তৃণমূল প্রকাশ করছে নিজেদের ইস্তেহার। কী কী থাকছে সেই ইস্তেহারে সেকথাও আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। শিক্ষার জন্য ক্রেডিট কার্ড, জামিন ছাড়াই। মহিলাদের হাতে টাকা। আরও মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হবে। ১০০ দিনের কাজকে আরও বাড়িয়ে দেওয়া হবে। বিনা পয়সায় খাদ্য দেওয়া হবে। অগাস্ট সেপ্টেম্বরে দুয়ারে সরকার হবে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করে নেবেন। ৫ লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে। তফশিলিদের জন্য ৬০ বছরের উপরের মানুষরা পাচ্ছেন ১ হাজার টাকা করে।
১৮ বছর বয়সেও বিধবা হলে বিধবা ভাতা পাবেন। রাঙামাটির দেশে খরার দেশ। সেখানে জলের সমস্যা বরাবরের। দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল পানীয় জলের। মুখ্যমন্ত্রী আজকের সভা থেকে কাজের খতিয়ান দিয়ে বলেছেন,তিনটি পানীয় জল প্রকল্প তৈরি হয়েছে। এই জেলায় আগে ১৯ শতাংশ লোক জল পেতেন। পুরুলিয়া আর এক বছরের মধ্যে ৮ লক্ষ মানুষ জল পাবে। জল প্রকল্প হয়ে গেলে পুরুলিয়ার ৫০ শতাংশ মানুষের কাছে জল পৌঁছে দেওয়া হবে। জল স্বপ্ন প্রকল্প করছে রাজ্য সরকার। ৫৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করে প্রকল্প। মাটি সৃষ্টি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ হবে। এছাড়াও তিনি বলেন ধীরে ধীরে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার অংশ ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অংশ নিয়ে মাটি সৃষ্টি প্রকল্প করছে রাজ্য সরকার। এতে ১০০ দিনের কাজ ২০০ দিনের হয়ে যাবে। আগে ভয় ছিল, এখন সেই পুরুলিয়ায় মানুষ শান্তিতে আছে।
পুরুলিয়ার বুকে সভা করতে গিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিরসা মুন্ডা প্রসঙ্গ, “বিজেপি এসে বিরসা মুন্ডার মূর্তি বলে অন্যের মূর্তিতে মালা দিয়ে চলে যায় বিজেপি। বিজেপি-তে মেয়েদের কোনও সন্মান নেই। বিজেপি মিথ্যে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ১৫ লক্ষ টাকা দিয়েছ? বিজেপিকে বিশ্বাস করবেন না। ওরা বিশ্বাসঘাতকের দল। আমাকে জব্দ করতে পায়ে আঘাত করা হয়েছে। আমরা কৃষকদের জন্য কাজ করেছি।” সভা থেকে তিনি বিজেপি সরকারের উত্তরোত্তর দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধিকেও কটাক্ষ করেছেন। বিজেপি বিদায় নেবে। আজকে গ্যাসের দাম ৯০০ টাকা। নরেন্দ্র মোদী সব খেয়ে নিয়েছে। ভোটের আগে ১০০ টাকা কমিয়ে দেবে, তারপর ভোট হলে আরও ৫০০ টাকা বাড়িয়ে দেবে। আমরা যদি বিনা পয়সায় চাল দি, তাহলে গ্যাসও বিনা পয়সায় দিতে হবে। ব্যাঙ্ক বন্ধ করে দিচ্ছে, কোল ইন্ডিয়া, রেল, বিএসএনএল, এমটিএনএল বন্ধ করে দিচ্ছে। আগে একটা বিড়ি দিলে তিনবার টানতো, এখন বিজেপি-র নেতাদের দেখুন। একটাই কারখানা চলবে, মোদীর মিথ্যে কথা বলার কারখানা। ত্রিপুরা, অসমের ইস্তাহার নিয়ে আসুন বিজেপি-র।


সেখানে সবাইকে স্থায়ী কর্মী করবে বলেছিল। কিছুই হয়নি। ইস্তেহারে বলবে, করবে না, মিথ্যে কথা বলে বেড়াচ্ছে। দানব, দৈত্য, রাবন, থেকে সাবধান। আমরা মা দুর্গাকে ভালবাসি। হিন্দু মুসলমান করবেন না। হাতা খুন্তি নিয়ে খেলা হবে। বিজেপি ভেবেছিল, পায়ে মেরেছে, আমি বেরবো না। কিন্তু আমি এক পায়ে যে শট মারব, তাতে মাঠের বাইরে ফেলে দেব। এখানকার কর্মীদের বলছি, ভোটের মেশিন ভাল করে পরীক্ষা করবেন। তিরিশটা করে ভোট হলে মেশিন দু’বার অফ-অন করবেন। ভোটের মেশিন খারাপ হলে মেশিন ঠিক হলে ভোট দেবেন, তাড়াহুড়া করবেন না। ভোটের মেশিনকে পাহারা দিতে হবে। রাজ্য পুলিশ যদি নির্বাচন কমিশনের আওতায় হলে দিল্লির পুলিশকেও আওতায় আনতে হবে। ঘুমের ওষুধ মিলিয়ে দিতে পারে বিরিয়ানি, চা-য়ে, তাই বিজেপি-র হাতের খাবার খাবেন না। এটা দিল্লির সরকার নয়। আগের বার পুরুলিয়ার সাংসদ জিতে পালিয়ে গেল।
হ্যান করেঙ্গা ত্যান করেঙ্গা বলে শুধু মিথ্যে স্বপ্ন দেখায় বিজেপি, আর মূর্তি ভাঙে বাংলায়: পুরুলিয়ায় মমতা। ঝাড়গ্রামের প্রার্থী বলছে, আগের দিন আসিস, ভোটের খরচ দিয়ে দেব। নির্বাচনের আগে টাকা দিয়ে বলবে, বিজেপি-কে ভোট দে। এটা সাধারণ মানুষের টাকা। বিজেপি-কে বলবেন, কোটি কোটি টাকা চুরি করেছিস। টাকা দিয়ে ভোট দেবেন না। ভোটের একমাস বাদে পগার পার, তারপর আর পাত্তা পাওয়া যাবে না।









