তীব্র গরমের মাঝেই নববর্ষে আবহাওয়ার নাটকীয় মোড়—পয়লা বৈশাখেই রাজ্যের একাধিক জেলায় কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা জারি। বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা জলীয় বাষ্পের জেরে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে দমকা হাওয়া (৫০-৭০ কিমি/ঘণ্টা) এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রশ্ন একটাই—এই ঝড় কি স্বস্তি দেবে, নাকি বাড়াবে অস্বস্তি?
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের দিন দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি—Purulia, Bankura, Jhargram, Paschim Bardhaman এবং Paschim Medinipur—ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, সঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কাও থাকছে। এই জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে।
একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই কালবৈশাখীর প্রভাব দেখা যেতে পারে। Darjeeling, Jalpaiguri, Kalimpong, Cooch Behar এবং Alipurduar-সহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে বাতাসের গতি ৪০-৫০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
তবে আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, এই ঝড়-বৃষ্টি খুব বেশি স্বস্তি দেবে না। গত কয়েকদিনের মতোই গরম ও অস্বস্তি বজায় থাকবে। বরং আর্দ্রতা বাড়ার কারণে ভ্যাপসা গরম আরও বাড়তে পারে।
কলকাতার কী হবে?
Kolkata-তে পয়লা বৈশাখে বড় ঝড়ের সম্ভাবনা কম হলেও আংশিক মেঘলা আকাশ, দমকা হাওয়া এবং কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টির ইঙ্গিত রয়েছে। তবে তাপমাত্রায় খুব একটা পরিবর্তন হবে না—ফলে গরমের অস্বস্তি বজায় থাকবে।
আগামী দিনের পূর্বাভাস:
বৃহস্পতিবারও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় থাকবে। শুক্রবার পর্যন্ত Birbhum ও Murshidabad-সহ একাধিক জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও সপ্তাহান্ত পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।
সব মিলিয়ে, নববর্ষে ঝড়ের ঝাপটা থাকলেও গরম থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলছে না—বরং আবহাওয়ার এই দ্বৈত চরিত্রই এখন রাজ্যের প্রধান চ্যালেঞ্জ।



