মালদহে বিক্ষোভে কড়া বার্তা শীর্ষ আদালতের, মুখ্যসচিব–ডিজিপি-সহ শীর্ষ কর্তাদের শোকজ

মালদহে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও ঘিরে কড়া অবস্থান সুপ্রিম কোর্টের, মুখ্যসচিব-ডিজিপি-সহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের শোকজ, রিপোর্ট তলব কমিশনের

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের মুখে উত্তপ্ত মালদহে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ শীর্ষ আদালতের। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতিকে ‘বিচার ব্যবস্থার উপর নির্লজ্জ হামলা’ বলে উল্লেখ করে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের শোকজের নির্দেশ—রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চাপের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

মালদহের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ঘটনাকে কেন্দ্র করে Supreme Court of India পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, ডিজিপি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিং কপূর এবং পুলিশ সুপার অনুপম সিংকে শোকজ নোটিস জারি করেছে। কেন তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।

Shamim Ahamed Ads

প্রধান বিচারপতি Surya Kant-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মালদহের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মন্তব্য করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখা এবং নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ফেলে রাখা আইনের শাসনের পরিপন্থী।

এদিকে পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়েছে Election Commission of India-ও। রাজ্য পুলিশের ডিজিপির কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি জানানো হয়েছে Calcutta High Court-এর প্রধান বিচারপতিকেও। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হাইকোর্ট থেকেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

বুধবার রাতের নাটকীয় পরিস্থিতিতে প্রায় আট ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় পুলিশ তাঁদের বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে আনে।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে কালিয়াচক ও সুজাপুর এলাকায় অবরোধ সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে চার দিনের মধ্যে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাসের পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় বিক্ষোভকারীরা।

তবে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উদ্ধার অভিযানের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং বিচারকদের নিয়ে যাওয়ার সময় এক বিক্ষোভকারী আহত হন। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে নির্দিষ্ট ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দ্রুত সমাধানের দাবিতে মালদহের বিভিন্ন এলাকায় বুধবার সকাল থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়, যা দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় সড়ক অবরোধের রূপ নেয়।

সব মিলিয়ে, মালদহের এই ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নই নয়—বরং নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা ও বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত