মাহেশের রথযাত্রা ২০২৬: বাংলার প্রাচীনতম রথ উৎসবের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও এবারের আকর্ষণ

হুগলির মাহেশে শতাব্দীপ্রাচীন রথযাত্রা শুধু বাংলার নয়, ভারতের অন্যতম প্রাচীন জগন্নাথ উৎসব। ২০২৬ সালের রথযাত্রাকে ঘিরেও শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। জেনে নিন মাহেশের রথের ইতিহাস, বিশেষত্ব এবং কেন এই উৎসব আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের আবেগ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলার রথযাত্রার কথা উঠলেই প্রথমেই আসে মাহেশ (Mahesh, Serampore)-এর নাম। হুগলি জেলার এই ঐতিহাসিক জনপদে আয়োজিত মাহেশের রথযাত্রা (Mahesh Rath Yatra) শুধু পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম রথ উৎসবই নয়, পুরীর পর ভারতের অন্যতম প্রাচীন জগন্নাথ রথযাত্রা বলেও পরিচিত। প্রায় ৬০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই ঐতিহ্য আজও একই ভক্তি, আচার ও জাঁকজমক নিয়ে পালিত হয়।

২০২৬ সালেও আষাঢ় মাসে এই ঐতিহাসিক রথযাত্রাকে ঘিরে ভক্ত ও পর্যটকদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। প্রতি বছরের মতো এবারও হাজার হাজার মানুষ মাহেশে এসে জগন্নাথদেবের রথের রশি টানার সৌভাগ্য অর্জনের অপেক্ষায় থাকবেন।

মাহেশের রথযাত্রার ইতিহাস

ইতিহাসবিদ ও প্রচলিত ঐতিহ্য অনুযায়ী, মাহেশের রথযাত্রার সূচনা ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দে। বৈষ্ণব সাধক কমলাকর পিপলাই (Kamalakar Piplai) এই রথযাত্রার প্রবর্তন করেন বলে প্রচলিত বিশ্বাস। পরবর্তীকালে এই উৎসব ধীরে ধীরে বাংলার অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পরিণত হয়।

মাহেশের জগন্নাথ মন্দির (Mahesh Jagannath Temple)-ও বাংলার অন্যতম প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির হিসেবে পরিচিত। বহু শতাব্দী ধরে এখানেই জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার আরাধনা চলে আসছে।

কেন মাহেশের রথ এত বিখ্যাত?

মাহেশের রথযাত্রাকে বিশেষ করে তুলেছে তার দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং বিশাল কাঠের রথ।

বর্তমান রথটি প্রায় ৫০ ফুট উঁচু, বহু টন ওজনের এবং ঐতিহ্যবাহী নবরত্ন (Navaratna) শৈলীতে নির্মিত। প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত এই রথের রশি টেনে পুণ্যলাভের আশায় অংশ নেন।

রথযাত্রার সঙ্গে জমে ওঠে ঐতিহ্যবাহী মেলা

রথযাত্রার পাশাপাশি মাহেশে বসে বিশাল মেলা। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই মেলা স্থানীয় সংস্কৃতি, হস্তশিল্প, মিষ্টি, খেলনা ও নানা লোকজ ঐতিহ্যের এক মিলনক্ষেত্র।

প্রতি বছর কয়েক লক্ষ ভক্ত ও পর্যটক এই মেলায় যোগ দেন বলে বিভিন্ন পর্যটন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের বিশেষ আকর্ষণ

২০২৬ সালের রথযাত্রায়ও ঐতিহ্যবাহী নিয়ম মেনেই জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান আকর্ষণগুলির মধ্যে থাকবে—

  • ঐতিহাসিক রথ টানার অনুষ্ঠান
  • জগন্নাথদেবের বিশেষ পূজা ও মহাপ্রসাদ
  • মাহেশের ঐতিহ্যবাহী রথমেলা
  • সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
  • ভক্তদের জন্য বিশেষ দর্শন ব্যবস্থা

রথযাত্রার দিন ২০২৬ সালে ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার পড়ছে।

মাহেশের রথযাত্রা ও পুরীর রথযাত্রার পার্থক্য

যদিও মাহেশের রথযাত্রা পুরীর ঐতিহ্য অনুসরণ করে, তবুও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

পুরীতে তিনটি পৃথক রথ বের হলেও মাহেশে ঐতিহ্যগতভাবে একটি বিশাল রথেই জগন্নাথদেবের যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যের ছাপ মাহেশের উৎসবকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

কীভাবে পৌঁছবেন মাহেশ?

মাহেশ হুগলি জেলার শ্রীরামপুরের কাছে অবস্থিত।

  • নিকটতম রেলস্টেশন: শ্রীরামপুর (Serampore Railway Station)
  • কলকাতা থেকে দূরত্ব: প্রায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার
  • সড়ক ও রেল—দুই পথেই সহজে পৌঁছানো যায়।

    মাহেশের রথযাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য, ইতিহাস ও ভক্তির এক অমূল্য নিদর্শন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই উৎসব বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে রয়েছে। ২০২৬ সালেও ঐতিহ্যের সেই ধারা বজায় রেখে মাহেশের রথযাত্রা আবারও লাখো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন