পুজোর আগে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার আপডেট জানাল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। সপ্তাহখানেক ধরে নিম্নচাপ নিয়ে যে দুশ্চিন্তা চলছিল, তাতে স্বস্তির খবর মিলেছে। দুর্বল হচ্ছে নিম্নচাপ। ফলে ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা অনেকটাই কমেছে। তবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকছে।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার ভোর সাড়ে চারটের দিকে গোপালপুর সংলগ্ন অঞ্চল দিয়ে নিম্নচাপটি ওড়িশায় প্রবেশ করেছে। এর অভিমুখ ছত্তিসগড়। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি আরও দুর্বল হবে। যদিও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি এড়ানো যাচ্ছে না।


শনিবার দুপুরের পর পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের কিছু অংশে বজ্রপাত-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দমকা ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
পঞ্চমীর দিনে কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.৭ ডিগ্রি বেশি। শনিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে ০.২ ডিগ্রি বেশি। এ দিন বাতাসে জলীয় বাষ্পের সর্বাধিক পরিমাণ ৯৭ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৭০ শতাংশ রেকর্ড হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের মতে, ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী পর্যন্ত বড় ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই, তবে দশমীতে ভারী বৃষ্টির ঝুঁকি বেশি দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। অর্থাৎ পুজোর প্রথম তিনদিন কিছুটা স্বস্তি মিললেও, দশমীর দিন সতর্ক থাকতে হবে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আপডেট পুজোর আনন্দ বাড়াবে। কয়েকদিন ধরে নিম্নচাপের কারণে পুজোর আমেজে জল পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে দুর্বল নিম্নচাপের কারণে এ বার কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কার্যত নেই।
তবে আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করে দিয়েছে, পুজোর দিনগুলিতে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে এবং হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যাঁরা প্যান্ডেল হপিংয়ের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস।








