শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার বিচারপতি দেবাশিস বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বার রশিদির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। কিন্তু, এই বিপুল সংখ্যক চাকরিহারাদের মধ্যে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরাও রয়েছেন। এবার ধর্মতলায় শহীদ মিনারের পাদদেশে ধর্না শুরু করলেন চাকরিহারাদের একাংশ। আগামীদিনে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বলেও জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: তৃণমূল কর্মীকে মারধরের অভিযোগ, ভোটের আগে থানায় হাজিরা দিতে হল অধীরকে


এতদিন রাজ্যে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন দেখেছে সাধারণ মানুষ। আর এবার পালা চাকরিহারাদের। মঙ্গলবার সকাল থেকেই দলে দলে চাকরিহারারা জমায়েত করলেন শহীদ মিনারের পাদদেশে। সেখানেই শুরু হল ধর্না। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা অবৈধ উপায়ে চাকরি পাননি। তা হলে কেন অবৈধ উপায়ে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য তাঁদেরও শাস্তি পেতে হবে?

২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ প্যানেলই বাতিল ঘোষণা করেছে আদালত। প্রায় ২৬ হাজার, যাদের চাকরি গেল, তাঁদের প্রাপ্ত বেতন ১২ শতাংশ সুদ সহ আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ফেরত দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে এই রায় নিঃসন্দেহে রাজ্যের কাছে এক বড় ধাক্কা। সোমা দাস নামের এক চাকরিপ্রার্থীর চাকরি বহাল থাকবে, তিনি ক্যানসার আক্রান্ত, তাই মানবিকতার খাতিরে তাঁর চাকরি বাতিল করা হবে না।



শহীদ মিনারে এবার চাকরিহারাদের ধর্না, যোগ্যরা যেতে চাইছেন সুপ্রিম কোর্টে
অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়ের সাফ কথা, “এই রায় বেআইনি। আমরা এই রায় মানি না। আমি বিচারকদের কিছু বলছি না। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে বলতেই পারি। সেটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। বিজেপির কথায় এই রায় হয়েছে। একতরফা রায়। বিচারের বাণী আজ নীরবে নিভৃতে কাঁদে। আগে একজন বিচারপতি ছিলেন না, বিজেপিতে যোগ দিলেন! এই মামলা তাঁর করা। আমরা আগামীদিনে সুপ্রিম কোর্টে যাব। চাকরিহারারা চিন্তা করবেন না। আমি পাশে আছি।”








