নজরবন্দি ব্যুরোঃ শক্তি হারিয়ে সুপার সাইক্লোন এখন নিম্নচাপ, গত কাল সকালের ল্যান্ডফলের পর থেকে বেশ কয়েক ঘন্টা প্রবল বেগে বয়েছে ঝড়। ১৫৫ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা ঝড়ের সঙ্গে প্রবল জলোচ্ছাসে কয়েকঘন্টাতেই কার্যত লন্ডভন্ড দুই পরগণা, মেদিনীপুর। তবে ইয়াসের ঝড়ের বেগের থেকেও গতকাল বেশি প্রভাব ফেলেছে ভরা কোটাল। গত ২৪ ঘন্টায় ধীরে ধীরে শক্তি কমেছে ইয়াসেরও। শক্তি হারিয়ে প্রবল বেগে ছুটে আসা সুপার সাইক্লোন এই মুহুর্তে পরিণত হয়েছে নিম্নচাপে।
আরও পড়ুনঃ ইয়াসের দুর্যোগের মাঝেই কারখানায় আগুন ব্যারাকপুরে


সাইক্লোন বাংলায় ঠিক কী পরিমাণ প্রভাব ফেলবে তা অনিশ্চিত ছিল সকলের কাছেই। তবুও আমফানের থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রায় সমস্ত রকম ব্যবস্থা নিয়েছিলো রাজ্য সরকার। ত্রাণ শিবির থেকে কন্ট্রোল রুম, ব্লকে ব্লকে মজুত ছিলেন সরকারি অফিসাররা, তৈরি ছিলো বহু পরিমাণ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনি। তবে ঝড়ের প্রভাব যে পরিমান আশঙ্কা করা হয়েছিলো ততটা না হলেও ক্ষতি হয়েছে ভরা কোটালের ফলে। দিঘা মন্দারমণি থেকে ফ্রেজারগঞ্জ, সন্দেশখালি জলের তলায় বাজার হাট, বাড়ি ঘর। ভরা কোটালে প্রবল জলোচ্ছাসের ফলে জায়জায় জায়গায় ভেঙেছে নদীর বাঁধ। সুন্দরবন এলাকার মানুষেরা নিজেদের গাঁ-গঞ্জ বাঁচাতে সারাদিন সাগর পাড়ে বাঁধ দিয়েছেন।
ঘুর্ণিঝড়ের দাপট কমলেও তা পরিণত হয়েছে নিম্নচাপে। রাজ্যের একাধিক জেলাতেই কাল রাত থেকেই চলছে মাঝারি এবং ভারি বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া দপ্তরও জানিয়েছে বজায় থাকবে নিম্নচাপ। আজ সকাল থেকে সারাদিন ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। বৃষ্টির দাপটও থাকবে কিছু কিছু জেলায়। তবে মেদিনীপুর থেকে সুন্দরবনের বিপদ কাটেনি এখনো। আজ চলবে ভরা কোটালের প্রভাব। ফলের ঝড়ের তান্ডব কিছুটা থামলেও এখনো একাধিক জায়গায় বাড়ছে জলের তল। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আগামিকাল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলিতে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পর্যালোচনা করবেন ক্ষতির।







