‘সেফ না… নো অ্যানসার’—ভারত প্রসঙ্গে কথা বলতেও আতঙ্কিত বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস

ভারতে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভারত প্রসঙ্গে প্রশ্নে ‘সেফ না’ মন্তব্য বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাসের। আতঙ্ক ও দ্বিধায় বিসিবি-র অবস্থান।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বাংলাদেশের অনীহা নতুন নয়। কিন্তু এ বার সেই অনিশ্চয়তা যেন স্পষ্ট আতঙ্কে রূপ নিল খোদ দলের অধিনায়কের কথায়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে কার্যত থমকে গেলেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কিংবা ভারতে খেলা—এই প্রসঙ্গ তুলতেই তাঁর সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ উত্তর, “সেফ না… নো অ্যানসার।” সেই এক বাক্যেই যেন ধরা পড়ল বর্তমান বাংলাদেশের অস্বস্তিকর বাস্তবতা।

ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে ‘নিরাপত্তা সমস্যা’র যুক্তি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আইসিসি-র সঙ্গে বৈঠক সত্ত্বেও সেই অবস্থানে বদল আসেনি। উল্টে ক্রিকেটের বাইরেও দু’দেশের সম্পর্কে তৈরি হয়েছে ঘৃণা ও বিদ্বেষের আবহ—এমনটাই মনে করছে ক্রীড়ামহলের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে Litton Das-এর অস্বস্তিকর প্রতিক্রিয়া সেই আশঙ্কাকেই যেন আরও উসকে দিল।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে Rangpur Riders-এর বিদায়ের পর সাংবাদিকরা লিটনের কাছে জানতে চান, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে তাঁর মত কী। প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই অধিনায়কের গলায় ধরা পড়ে আতঙ্ক—“সেফ না, সেফ না। নো অ্যানসার।” সঙ্গে যোগ করেন, “আমি বুঝতে পারছি আপনি কী বলতে চাইছেন, কিন্তু নো অ্যানসার।” প্রকাশ্যে এমন প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে—নিজের দেশেই কি নিরাপদ নন বাংলাদেশের অধিনায়ক?

এই আতঙ্ক কি ধর্মীয় বা রাজনৈতিক কারণজনিত? নাকি সরকারি অবস্থানের বাইরে কিছু বলার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না লিটন? তাঁর কণ্ঠস্বরের ভঙ্গি ও শরীরী ভাষা দেখে অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রিকেটাররাও মুক্তভাবে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না।

বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ উঠতেই লিটন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠেন। যে বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ কার্যত বয়কটের পথে, সেই প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্নে তিনি পালটা বলেন, “আপনি নিশ্চিত আমরা বিশ্বকাপে খেলব?” তার পর বাস্তবসম্মত স্বীকারোক্তি—“আমরা ১৫ জনের কেউই জানি না কোন দেশে খেলব, কোন গ্রুপে থাকব, কাদের বিরুদ্ধে খেলব। এটা আমাদের হাতে নেই। আমরা সবাই অনিশ্চয়তায়। পুরো বাংলাদেশই অনিশ্চিত।”

এই বক্তব্যে পরোক্ষ ভাবে প্রশ্ন উঠছে Bangladesh Cricket Board-এর সিদ্ধান্ত নিয়েও। ইতিমধ্যেই বিসিবি ও ক্রিকেটারদের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। এ বার অধিনায়কের কথাতেই স্পষ্ট—সমস্যা শুধু মাঠের বাইরে নয়, টিমের অন্দরেও গভীর।

ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের এই নাটক যে এখানেই শেষ হচ্ছে না, তা বোঝাই যাচ্ছে। বিশ্বকাপ, নিরাপত্তা ও রাজনীতির টানাপোড়েনে আরও কত অধ্যায় যোগ হবে, সে দিকেই এখন তাকিয়ে ক্রিকেট দুনিয়া।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন