ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party – CJP)-র আন্দোলনের সমর্থনে শুক্রবার কলকাতার রাজপথে নামে হাজার হাজার ছাত্র-যুব। মেডিক্যাল প্রবেশিকা (NEET)-তে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগের দাবিতে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বিশাল মিছিলের ডাক দেয় একাধিক বাম ছাত্র সংগঠন। সন্ধ্যার দিকে ধর্মতলা (Esplanade) চত্বরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার ঘটনায় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।
দুপুর থেকেই শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার দিকে ছাত্রদের ঢল নামে। এসএফআই (SFI), এআইডিএসও (AIDSO), আইসা (AISA)-সহ একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের পতাকায় মুখর হয়ে ওঠে শহরের রাজপথ। ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বহু সাধারণ ছাত্রছাত্রীও মিছিলে সামিল হন। মিছিল যত ধর্মতলার দিকে এগোয়, ততই জনসমাগম বাড়তে থাকে।
সন্ধ্যা নাগাদ ডোরিনা ক্রসিং (Dorina Crossing)-এ পৌঁছতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের দিক থেকে ইট, জুতো ও বোতল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামানো হয় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (Rapid Action Force – RAF)। পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
যদিও পুলিশের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। কলকাতা পুলিশের দাবি, মিছিলে কিছু ‘বহিরাগত’ ঢুকে পড়েছিলেন। তাঁদের ঘিরেই আন্দোলনকারীদের নিজেদের মধ্যে বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতি না ঘটে, সেই কারণেই পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকেরা এর আগে কলকাতায় কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)-এর কাছে ই-মেল করেছিল। প্রথম আবেদন খারিজ হওয়ার পর ২৪ জুলাই কলেজ স্ট্রিট (College Street) থেকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ (Rani Rashmoni Avenue) পর্যন্ত মিছিলের জন্য ফের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। শুক্রবারের বিক্ষোভ সেই আন্দোলনেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টা নাগাদ ধর্মতলা চত্বরের অধিকাংশ রাস্তা খুলে দেওয়া হলেও যান চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগে। প্রশ্নফাঁস ইস্যু এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন যে শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ছে, কলকাতার এই বিক্ষোভ সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল।



