নজরবন্দি ব্যুরোঃ মদ খাইয়ে ভোট ‘লুঠ’ ঠেকাতে নজিরবিহীন উদ্যোগ নির্বাচন কমিশনের! রাজ্যে ভোট ঘোষণা এখনও হয়নি কিন্তু তাঁর আগেই চলে এসেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুরু হয়ে গিয়েছে রুটমার্চ। চলছে আধিকারিকদের বদলি। কমবেশি ২০২১ সালের নির্বাচন নিয়ে বেশ সক্রিয় নির্বাচন কমিশন। কোন কিছুকেই আলগা ভাবে দেখছে না কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যে চলে এসেছে ১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। আসছে আরও ১১৩ কোম্পানি।
আরও পড়ুনঃ আব্বাস কে আসন ছাড়তে গিয়ে তলানিতে বাম শরিকদের আসন! কার হাতে কত?
এদিকে নির্বাচনে টাকা দিয়ে এবং মদ খাইয়ে ভোট করানোর খবর এসেছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। তাই এবার মদ নিয়েও তথ্য সংগ্রহে নামল কমিশন। ব্র্যান্ড ধরে ধরে বিলিতি ও দেশি মদের মজুত এবং বিক্রির হিসাব নিজেদের কাছে রাখতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি চলছে মদ সাপেক্ষে স্পর্শ্বকাতর এলাকা চিহ্নিতকরনের কাজ! এদিন গোটা পশ্চিম মেদিনীপুর জুড়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলল।
বিক্রির হিসাব ধরে মদের সাপেক্ষে স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে এদিন। কমিশন সূত্রে খবর সমগ্র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে মোট ২২৮ টি অফ শপ এবং অন শপের তথ্য পেয়েছেন তাঁরা। সেই সবকটি দোকানের মালিকদের থেকে চলতি মাস এবং গতমাসের মদ বিক্রির হিসেব নেওয়া হচ্ছে। আর শুধু মদ বিক্রি নয় কোন ব্র্যাণ্ডের কত মদ বিক্রি হচ্ছে তাঁর হিসেবও নেওয়া হচ্ছে।
মদ খাইয়ে ভোট ‘লুঠ’ ঠেকাতে নজিরবিহীন উদ্যোগ নির্বাচন কমিশনের! দোকানদারদের সূত্রে খবর, এদিন কমিশনের আধিকারিকরা তাঁদের কাছে মদ বিক্রির হিসাব নিয়েছে। লকডাউনের আগে এবং পরে কী পরিমাণ মদ বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে না কমেছে। এমনকি দৈনিক কোন ব্র্যান্ডের মদ কতটা বিক্রি হচ্ছে–সব খুঁটিনাটি তথ্য দিতে হচ্ছে আবগারি দপ্তরকে।
এদিকে জেলা অবগরি দফতর জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশ আসা মাত্রই তা মদ বিক্রেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দোকানদারদের জানানো হয়েছে, প্রতিদিন দোকানে কোন ব্র্যান্ডের মদ কী পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে, কতটা মজুত রয়েছে তার পুঙ্খাণুপুঙ্খ হিসাব আবগারি দপ্তরের নির্দিষ্ট সাইটে আপলোড করতে। জেলা আবগারি দপ্তরও সার্বিক হিসেব প্রতিদিন পাঠিয়ে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশনে।
কিন্তু কেন এই উদ্যোগ? সূত্রের খবর নির্বাচন কমিশন খবর পেয়েছে ভোটে টাকা বিলোনোর পাশাপাশি মদ খাইয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। তাই এখন থেকেই দৈনিক বিক্রির ওপর নজর রাখতে শুরু করল কমিশন!



