বিধানসভায় আগেই প্রতিনিধিত্ব হারিয়েছে বামেরা, এবার একই ছবি দেখা যেতে পারে রাজ্যসভাতেও। পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসনে মেয়াদ শেষ হতে চলেছে বর্তমান সাংসদদের, আর বিধায়ক সংখ্যার অঙ্কে সেখানে বামেদের কোনও সুযোগ নেই বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ফলে রাজ্যসভায় বাংলার প্রতিনিধিত্ব থেকেও শূন্য হয়ে যেতে পারে বাম শিবির।
আগামী ২ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ জন রাজ্যসভার সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই নির্বাচন হবে এই আসনগুলিতে। বর্তমান বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে চারটি আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় প্রায় নিশ্চিত, আর একটি আসনে বিজেপি প্রার্থী পাঠাতে পারবে। যদি কোনও দল অতিরিক্ত প্রার্থী না দেয়, তা হলে এই আসনগুলিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের সম্ভাবনাও রয়েছে।


এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, অতীত পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের কথা ভাবা হচ্ছে। তবে নতুন মুখ তুলে আনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
গত কয়েক বছরে তৃণমূলের একাধিক রাজ্যসভা আসনে সাংসদের মুখ বদল হয়েছে বারবার। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে পরাজয়ের পর দীনেশ ত্রিবেদী, মৌসম বেনজির নূর ও অর্পিতা ঘোষকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল দল।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে দীনেশ ত্রিবেদী সংসদে দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখার পর সাংসদ পদ ও দল ছেড়ে দেন। তাঁর জায়গায় রাজ্যসভায় পাঠানো হয় অবসরপ্রাপ্ত আমলা জহর সরকারকে।


আর জি কর আন্দোলনের সময় জহর সরকারও সাংসদ পদ ও দল ছেড়ে দেন। সেই আসনে পাঠানো হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে, গোয়া বিধানসভা ভোটের আগে সাংসদ পদ ছেড়ে দেন অর্পিতা ঘোষ। তাঁর জায়গায় রাজ্যসভায় পাঠানো হয় গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেরিওকে। তবে তিনিও পরে দল ছেড়ে দেন। সেই আসনে পাঠানো হয় আরটিআই কর্মী সাকেত গোখলেকে।
এই দুই আসনে বারবার সাংসদের মুখ বদল হওয়ায় তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনাও হয়েছে। সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরে গিয়েছেন মৌসম বেনজির নূর। পাশাপাশি তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর মেয়াদও শেষ হচ্ছে।
অন্যদিকে, বামেদের একমাত্র সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। বিধানসভায় বামেদের কোনও বিধায়ক না থাকায় রাজ্যসভায়ও তাঁদের প্রতিনিধিত্ব শূন্যে নেমে আসার সম্ভাবনা প্রবল।








