আইএসএফ-জোট নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেই রাজ্য বামফ্রন্টের রোষের মুখে পড়ল ফরোয়ার্ড ব্লক। সাম্প্রতিক বৈঠকে আইএসএফের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে সিপিআইএম-এর আগ্রহের তীব্র বিরোধিতা করেন ফরোয়ার্ড ব্লক-এর রাজ্য সম্পাদক নরেন চ্যাটার্জী। তাঁর কড়া মন্তব্যে উত্তপ্ত হয় বৈঠক, মাঝপথেই বৈঠক ত্যাগ করেন তিনি ও সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়—যা বাম শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে।
বামফ্রন্টের অন্দরে এই টানাপড়েন নতুন নয়, তবে এ বার বার্তা আরও স্পষ্ট। জোটের বাইরে ‘লাফালাফি’ চলবে না—এমনই কড়া অবস্থান নিয়েছে বামফ্রন্ট। শুধু দাবি জানালেই হবে না, প্রমাণ দিতে হবে—এই শর্তে ফরোয়ার্ড ব্লককে কার্যত সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
আইএসএফ নিয়ে কেন ক্ষোভ
নরেন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল, “আমরা শুধু বামফ্রন্টগতভাবে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চাই। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে মুখ পুড়েছে। এখন আবার আইএসএফ—এভাবে চললে বামপন্থীদের উপর মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে।” এই অবস্থানেই অনড় থেকে তিনি বৈঠক ত্যাগ করেন বলে সূত্রের খবর।
আসন সমঝোতায় তীব্র চাপানউতর
বৈঠকে আসন সমঝোতা নিয়েও উত্তেজনা চরমে ওঠে। ফরোয়ার্ড ব্লকের দাবি প্রায় ৩০টি আসন। এখানেই বামফ্রন্টের কড়া বার্তা—এত আসনের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়, যদি না সংগঠনের বাস্তব শক্তির প্রমাণ দেওয়া যায়।
বামফ্রন্টের শর্ত কী
বামফ্রন্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরোয়ার্ড ব্লককে জানানো হয়েছে—
কোন কোন আসনে তারা লড়তে চায়, তার স্পষ্ট তালিকা দিতে হবে।
শুধু নাম নয়, সেই আসনগুলিতে সাংগঠনিক কাঠামো, কর্মীসংখ্যা, স্থানীয় প্রভাব ও ভোট-ভিত্তির বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে।
এই তথ্য যাচাই করেই আসন বণ্টন নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বামফ্রন্ট নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
বামফ্রন্টের এই অবস্থান স্পষ্ট করছে—জোটনীতি নিয়ে শৃঙ্খলা ভাঙা চলবে না। আসন্ন নির্বাচনের আগে বাম শিবিরে ঐক্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আরও কড়া হচ্ছে, আর সেই বার্তাই ফরোয়ার্ড ব্লকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।



