বাম আমলের শিক্ষা দুর্নীতি! বুদ্ধ-জমানার শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে সবুজ সংকেত হাই কোর্টের

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানায় শিক্ষায় নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্ট; রাজ্যকে তদন্তের পথে হাঁটার ইঙ্গিত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাম আমলের শিক্ষায় নিয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড়। কলকাতা হাই কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে উঠে এল অভিযোগ—তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নিয়মবহির্ভূত ভাবে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে চাকরি দিয়েছেন এবং সরকারি তহবিল থেকে বেতন মেটানো হয়েছে। বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্য চাইলে এই অনৈতিক নিয়োগের তদন্ত শুরু করতে পারে। ফলে রাজনৈতিক মহলে ফের চর্চার কেন্দ্রে বুদ্ধ-জমানা।

মামলার সূত্রপাত ২০১২ সালে। বিকাশ ভবনে বিভাগীয় সহকারী পদ থেকে তিথি অধিকারীকে বহিষ্কার করে বর্তমান রাজ্য সরকার। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন। বুধবার সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায় আবেদন খারিজ করার পাশাপাশি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকায় প্রশ্ন তোলেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সরকারি পদে নিয়োগের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, সেই নিয়ম ভেঙে ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে নিয়োগ করা হয়েছিল। বিচারপতি মন্তব্য করেন, সরকারি কোষাগারের অর্থ এভাবে বিলি করা যায় না। রাজ্য সরকার চাইলে কীভাবে ওই নিয়োগ হয়েছিল এবং সরকারি তহবিল থেকে বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে পারে।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০০৭ সালে সর্বশিক্ষা মিশনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসাবে উলুবেড়িয়া ইস্ট সার্কলে যোগ দেন সংশ্লিষ্ট কর্মী। প্রতি বছর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। পরে তাঁকে বালি ইস্ট সার্কলে প্রোজেক্ট অফিসার হিসাবে পাঠানো হয়। ২০০৯ সালে কাজে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে এবং ২০১০ সালে তাঁর চুক্তি নবীকরণ হয়নি।

এরপর তিনি সরাসরি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। অভিযোগ, ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে তাঁকে বিকাশ ভবনে শিক্ষা দপ্তরের বিভাগীয় সহকারী পদে নিয়োগ করা হয়। সেই পদে বেতন মেটানো হয় সর্বশিক্ষা মিশনের তহবিল থেকে। ২০১২ সালের আগস্টে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর দফতরের এক আধিকারিক তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেন।

আদালতে তিথির দাবি ছিল, তাঁকে কারণ দর্শানো ছাড়াই সরানো হয়েছে। তবে বিচারপতি আবেদন খারিজ করে বলেন, প্রাথমিকভাবে যে নিয়োগ হয়েছিল সেটিই ছিল নিয়মবহির্ভূত। ফলে সেই নিয়োগের ভিত্তিতে চাকরিতে বহাল থাকার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না।

রাজ্য যদি তদন্তে নামে, তাহলে বাম আমলে আরও এমন নিয়োগের ঘটনা সামনে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত। ফলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই রায়ের প্রভাব যে সুদূরপ্রসারী হতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত