নজরবন্দি ব্যুরোঃ সব রঙে মিলে মিশে একাকার। কেন্দ্র- রাজ্য আঁতাত নিয়ে কটাক্ষ করা বামেরা, এবার জোট বাঁধলেন গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে। লক্ষ্য শাসকদলের দুর্নীতি থেকে মুক্ত করা। সমবায় ভোটে পুনরায় দেখা গেল লাল-গেরুয়া জোট। কোনঠাসা ঘাস্ফুল শিবির। সমবায় নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরে আবারও চেনা ছবি। নন্দকুমারের পরে এবার মহিষাদলে বাম-বিজেপি জোট। তবে কি আবারও আসন হারাবে তৃণমূল?
আরও পড়ুনঃ রাহুলের সঙ্গে ভারত জোড়ো যাত্রায় রিয়া, সেন পরিবারে রাজনৈতিক মত বদল নিয়ে জল্পনা
আগের সমবায় নির্বাচনে নন্দকুমারে অসম লড়াইয়ে নেমে কার্যত ধুয়েমুছে গিয়েছিল তৃণমূল। সেই সমবায় নির্বাচনে ৬৩টি আসনের মধ্যে একটিও জিততে পারেনি রাজ্যের শাসকদল। সেই মডেলেই এবার ভোটের লড়াই হতে চলেছে মহিষাদলের কেশবপুর জালপাই রাধাকৃষ্ণ সমবায় সমিতিতে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অত্যন্ত খুশি ছিলেন সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেছিলেন, তৃনমূলকে কোন ঠাসা করতে বাম বিজেপি একটি কার্যকরী জোট হতে পারে। কিন্তু উচ্চপদস্থ কর্তারা এটি মেনে নিতে পারেন নি। বাম নেতারা এই জোটকে অস্বীকার করেন। তবে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এবার মহিষাদলের সমবায় নির্বাচনে পুনরায় ফিরে এল বাম বিজেপি।

ফের বাম ও বিজেপি সমবায় সমিতির নির্বাচনে বোঝাপড়া করে প্রার্থী দিল । একসঙ্গে প্রচারেও নেমে পড়লেন বাম ও বিজেপির নেতাকর্মীরা। একদিকে মহিষাদলের ইটামগরা ২ অঞ্চলের বিজেপি আহ্বায়ক রামকৃষ্ণ দাস। তার পাশে মহিষাদলের সিপিআই ইটামগরা ২ আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক সুধাংশু বারিক। রামকৃষ্ণ দাস বলছেন, ‘আমাদের লড়াই মূলত তৃণমূলের বিরুদ্ধেই। সেক্ষেত্রে আমরা মানুষের জোট করেছি। উনিও দীর্ঘদিনের ২৪ বছরের বামপন্থী প্রধান, আমিও দীর্ঘদিন প্রধান ছিলাম এই অঞ্চলের।’ মহিষাদল কেশবপুর জালপাই সমবায় সমিতির নির্বাচনে আর পাঁচটা নির্বাচনের মতোই তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা যেমন রয়েছেন, তেমনই জোট প্রার্থীদের পোস্টার দিয়েও চলছে জোর প্রচার।
মডেল নন্দকুমার, তৃণমূলকে ছেঁটে ফেলতে মহিষাদলে বাম-বিজেপি জোট

মহিষাদলের এই সমবায়ে মোট ৭৬টি আসন রয়েছে। সেখানে বাম ও বিজেপি জোট করে ‘সংযুক্ত কৃষক মোর্চা’র নামে ৭৫টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে বিজেপির ৬২ জন এবং বামেদের ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। অন্যদিকে সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। ফলে ভোটের আগেই একটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে রাজ্যের শাসকদল। তাই তৃণমূলকে একঘরে করতে এই সাময়িক চুক্তি করেছে গেরুয়া ও লাল দল। এবারও কী নন্দকুমার মডেলে নির্ভর করে ফের সাফল্য পাবে জোট? নাকি সেই হিসেব উল্টে জয়ী হবে তৃণমূল? ফলাফলের অপেক্ষায় চোখ থাকবে ২০ নভেম্বরের দিকে।



