নজরবন্দি ব্যুরোঃ লোকাল ট্রেনের প্রতি কামরায় বসল টিভি, করোনা কালে ‘ডিপ্রেশন’ -এ ভোগা যাত্রীদের মনোরঞ্জনের জন্যে এই উদ্যোগ নিয়েছিল ভারতীয় রেল। পাশাপাশি লক্ষ থাকছে টিভি স্ক্রিনে বিজ্ঞাপন চালিয়ে কিছু রোজগার করারও। কারন করোনা আবহে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রেল। কমেছে যাত্রী সংখ্যা, তারপর লকডাউনের বিধি কার্যকর ছিল বহুদিন। সব মিলিয়ে জেরবার লোকাল ট্রেন পরিষেবাকে নতুন মাত্রা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রেল।
আরও পড়ুনঃ ভুবনেশ্বর যেতে রাজি নন তৃণমূলের মহাসচিব, ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন SSC কাণ্ডে ধৃত পার্থর!
হাওড়া-বর্ধমান লোকাল ট্রেনে এই টিভির পরিষেবা প্রথম চালু হচ্ছে আগামীকাল থেকে। পূর্ব রেলে সূত্রে খবর, হাওড়া-বর্ধমান দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে সব লোকাল ট্রেনেই এলইডি টিভি বসানো হবে। সিটে বসে বা দাঁড়িয়ে এক ঘণ্টা হোক বা পাঁচ মিনিট, যাই যাত্রা পথ হোক না কেন টিভি দেখার সুযোগ পাবেন প্রত্যেক যাত্রী। প্রতিটি কোচের একেবারে শেষ দুই প্রান্তে দু’টি করে মোট চারটি টিভি বসছে।

টিভি বসানোর দায়িত্ব পেয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থা। বেসরকারি ওই সংস্থার সিংহভাগ অনুষ্ঠান চলবে লোকাল ট্রেনের টিভিতে। বাকি ৩০ শতাংশে থাকবে রেলের বিভিন্ন ঘোষণা ও অনুষ্ঠান। পরবর্তী স্টেশন সম্পর্কে ঘোষণাও শোনা এবং দেখা যাবে টিভিতেই। ওই বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে ৫ বছরের চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তী।

ভারতীয় রেলে এই প্রকল্প মুম্বইয়ের পর দ্বিতীয় স্তরে চালু হচ্ছে হাওড়া ডিভিশনে। সোমবার হাওড়া থেকে ১১:৫০ মিনিটের ব্যান্ডেল লোকালটিতে প্রথম চালু হচ্ছে এই পরিষেবা। প্রতি কোচে চারটি করে এলইডি টিভি লাগানো হবে। পুরো ট্রেনটিতে মোট ৪৮টি টিভি থাকবে। রেল প্রতি বছর এই টিভির মাধ্যমে বিজ্ঞাপন চালিয়ে ৫০ লক্ষ টাকা রোজগার করবে বলে জানা গিয়েছে।
লোকাল ট্রেনে বসে টিভি দেখতে পারবেন, কাল থেকেই হাওড়ায় চালু নতুন পরিষেবা

বছরখানেক আগে লোকাল ট্রেনে লাগানো হয়েছিল বিজ্ঞাপনবিহীন অডিও সিস্টেম। যা ছিল শুধুই বিনোদনের জন্য। হাওড়া-দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসে প্রথম বিনোদনমূলক অডিও সিস্টেম চালু করা হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। সেতার, সরোদ, গিটারের মতো বাদ্যযন্ত্রের সুর বাজতো যাত্রীদের মনোরঞ্জনের জন্যে। এরপর দেশের প্রায় সব রাজধানী এক্সপ্রেসেও তা চালু হয়। রাজধানী এক্সপ্রেসের পরে মেল, এক্সপ্রেসেও লাগানো হয় অডিও সিস্টেম। সর্বপ্রথম গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেসে বাজতে শুরু করে রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল গীতি।



