বিহারের রাজনীতিতে ডামাডোল যেন থামছেই না। একদিন আগেই ‘ইন্ডিয়া’ জোট ত্যাগ করে ‘এনডিএ’ জোটে ফিরে গিয়েছেন জেডিইউ প্রধান নীতিশ কুমার (Nitish Kumar)। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথও নিয়েছেন তিনি। সোমবার আবার সে রাজ্যেরই আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা তথা আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদবকে (Lalu Prasad Yadav) হাজিরা দিতে হল পাটনার ইডি দফতরে। জমির নিয়ে চাকরি মামলায় তাঁকে তলব করে এজেন্সি।
আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গে ফ্যাক্টর রাজবংশী ভোট, কোচবিহার থেকে কী বার্তা দেবেন মমতা?


বেআইনিভাবে রেলে চাকরি দেবার অভিযোগ উঠেছে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব (Lalu Prasad Yadav) ও তাঁর পুত্র তথা বিহারের বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবের (Tejawsi Yadav) বিরুদ্ধে। দু’জনকেই নোটিস পাঠিয়ে তলব করেছে ইডি। ২৯ তারিখ লালুকে, আর ৩০ তারিখ তেজস্বীকে। ইতিমধ্যেই দিল্লি থেকে ইডি আধিকারিকদের একটি দল পাটনায় এসে পৌঁছেছেন। লালুকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে উপস্থিত থাকবেন পাটনার ইডি অফিসারেরাও।

এদিন ইডি দফতরে লালু প্রসাদ যাদবের (Lalu Prasad Yadav) সঙ্গে হাজির হন তাঁর মেয়ে মিসা ভারতী এবং জামাই। মিসা বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির অভিযোগ তুলে বলেন, “যারা বিজেপির সঙ্গে থাকছে না তাঁদেরই এই গ্রিটিং কার্ড পাঠানো হচ্ছে। এটা কোনও নতুন বিষয় নয়। আমাদের তলব করা হলে আমরা হাজিরা দেই। প্রশ্নের উত্তর দেই। তদন্তে সহায়তা করি৷”



২০০৪ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত রেলমন্ত্রী ছিলেন লালু প্রসাদ যাদব (Lalu Prasad Yadav)। সেই সময়কালের দুর্নীতিই প্রকাশ্যে এসেছে। আগেই জানা গিয়েছিল, জমির বিনিময়ে রেলে চকরি পাইয়ে দিয়েছেন লালু। সিবিআই (CBI) সেই মামলায় লালুকে তলবও করেছিল আগে। কয়েক মাস আগে ডাকা হয়েছিল লালুর স্ত্রী মা রাবড়ি দেবী, কন্যা মিশা ভারতী ও রাগিনী যাদবকে। এবার সেই একই মামলায় লালু ও তাঁর পুত্রকে তলব করেছে ইডি (ED)।
জমির বদলে চাকরি মামলায় তলব, মেয়ে-জামাইকে নিয়ে ইডি দফতরে লালু
সিবিআই (CBI) তদন্তের পর জানিয়েছিল, পাটনার একাধিক বাসিন্দা, লালু (Lalu Prasad Yadav) ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা সংস্থাকে তাঁদের জমি বিক্রি করেছিলেন অথবা উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন রেলে চাকরি পাবার জন্য। এখন ইডি সূত্রে খবর, এদের মধ্যে অনেকে এখনও রেলে কর্মরত। তাছাড়া আরও একটি তথ্য এসেছে ইডির হাতে।

ইডি (ED) জানতে পেরেছে এমন একটি জমি কথা, যে জমিটি মাত্র ৭ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন লালু-পত্নী রাবড়ি দেবী। সেই জমিটি কিছু কাল আগে একটি নির্মাণ সংস্থাকে ৩ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। একথাটা যদিও সিবিআই (CBI) তাঁদের চার্জশিটেও উল্লেখ করেছে। তাছাড়াও এমন দুটি জমির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে যারা এখনও রেলে কর্মরত।







