আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত কোচি টাস্কার্স কেরালা অধ্যায় নিয়ে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রাক্তন আইপিএল চেয়ারম্যান ললিত মোদি। লন্ডনে বসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ২০১০ সালের কোচি ফ্র্যাঞ্চাইজি বিতর্কে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শশী থারুরকে রক্ষা করতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সক্রিয় হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ফ্র্যাঞ্চাইজির শেয়ার কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরই তাঁকে চাপে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়।
এক সাক্ষাৎকারে ললিত মোদি বলেন, কোচি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা কাঠামো নিয়ে তাঁর গুরুতর আপত্তি ছিল। বিশেষ করে প্রয়াত সুনন্দা পুষ্করের নামে বরাদ্দ হওয়া অংশীদারিত্ব নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর দাবি, বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা অংশীদারদের তুলনায় সুনন্দা পুষ্কর বিনামূল্যে উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব পাচ্ছিলেন, যা তাঁকে সন্দিহান করে তোলে।


ললিত মোদির বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যখন এই আর্থিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, তখন তৎকালীন ইউপিএ সরকারের একাধিক প্রভাবশালী নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি দাবি করেছেন, সেই সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল যাতে বিষয়টি আর না বাড়ানো হয়।
প্রাক্তন আইপিএল প্রধানের অভিযোগ, কোচি ফ্র্যাঞ্চাইজির চুক্তিপত্রে সই করার আগে তিনি সুনন্দা পুষ্করের ভূমিকা ও শেয়ারহোল্ডিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, তিনি এই বিষয়ে পরিষ্কার উত্তর পাননি এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পক্ষেই ছিলেন।
ললিত আরও দাবি করেন, এক পর্যায়ে শশী থারুরের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথোপকথন হয়েছিল। সেই আলোচনায় সুনন্দা পুষ্কর সম্পর্কে প্রশ্ন না তোলার অনুরোধ করা হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি নতুন কোনও নথি বা প্রমাণ প্রকাশ করেননি।


সাক্ষাৎকারে কোচি টাস্কার্স কেরালাকে আইপিএলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, কেরালায় উপযুক্ত স্টেডিয়াম না থাকা সত্ত্বেও বিশেষ অনুরোধের ভিত্তিতে সেই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে কোচি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ঘিরে বিতর্কের জেরে শশী থারুরকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল। পরে ২০১১ সালে বোর্ডের সঙ্গে বিরোধের জেরে কোচি টাস্কার্স কেরালার চুক্তিও বাতিল হয়ে যায়। দলটি মাত্র এক মরশুম আইপিএলে অংশ নিয়েছিল।
সুনন্দা পুষ্করের মৃত্যুর আগে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন ললিত মোদি। তিনি দাবি করেন, বিতর্কের সময় কিছু তথ্য প্রকাশ্যে আনার বিষয়ে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল। যদিও তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে কখনও সুনন্দা পুষ্করের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি।
একই সাক্ষাৎকারে নিজের বিদেশে অবস্থান এবং অতীতের রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও কথা বলেন ললিত মোদি। প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সাহায্যে বিদেশ সফরের অনুমতি পাওয়ার বিতর্ক নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। তাঁর দাবি, অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে যাওয়ার মানবিক প্রয়োজন থেকেই তিনি সেই সহায়তা চেয়েছিলেন।
আইপিএলের পুরনো বিতর্ককে ঘিরে ললিত মোদির এই নতুন দাবি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলের জল্পনা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



