ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ দুরন্ত ছন্দ বজায় রাখলেন কিলিয়ান এমবাপে। ইরাকের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে শুধু ফ্রান্সকে নকআউট পর্বে তোলাই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায়ও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেলেন ফরাসি তারকা। একই সঙ্গে মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করে তিনি আরও এক ঐতিহাসিক কীর্তি গড়লেন।
ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে ফ্রান্স। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আবহাওয়ার নাটকীয় প্রভাব। ঝড়-বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের কারণে নির্ধারিত সময়ের ম্যাচ শেষ হতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। দীর্ঘ বিরতির কারণে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ ম্যাচ হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে এই লড়াই।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় ফ্রান্সকে। ১৪ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত বাঁ-পায়ের শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপে। তাঁর শক্তিশালী শট প্রতিহত করার কোনও সুযোগই পাননি ইরাকের গোলরক্ষক।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর আচমকাই আবহাওয়া খেলার ছন্দ ভেঙে দেয়। স্টেডিয়ামের আশপাশে বজ্রঝড় শুরু হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে খেলা স্থগিত রাখতে হয়। মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে বজ্রপাত হলে খেলা বন্ধ রাখতে হয় এবং নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষার পর পুনরায় ম্যাচ শুরু করা যায়। সেই কারণেই বিরতি দীর্ঘায়িত হয়ে দাঁড়ায় দুই ঘণ্টারও বেশি।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর খেলা শুরু হতেই আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেন এমবাপে। দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল করে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৬-তে। এর ফলে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজ়ে-র রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি। পাশাপাশি ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনাল্ডো-কেও পিছনে ফেলে দেন ফরাসি তারকা।
ফ্রান্সের তৃতীয় গোলটি করেন উসমান দেম্বেলে। ৬৬ মিনিটে তাঁর গোলেই ম্যাচের ফল কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। ইরাক একাধিকবার পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও ফরাসি রক্ষণভাগের সামনে কার্যকর হতে পারেনি।
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। তবে সামনের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী নরওয়ে। সেই ম্যাচে মুখোমুখি হতে পারেন বর্তমান ফুটবল বিশ্বের দুই বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হালান্ড।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপের দুরন্ত ফর্ম এখন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরের ম্যাচে আর মাত্র একটি গোল করলেই তিনি ক্লোজ়েকে পিছনে ফেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে উঠবেন। অন্যদিকে, শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসি-র রেকর্ডের দিকেও নজর রাখছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
ফ্রান্সের নকআউট নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এমবাপের এই ঐতিহাসিক কীর্তি বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, চলতি বিশ্বকাপেই তিনি আর কত দূর নিজের রেকর্ডকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।



