প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষের জামিন, আদালতের কঠোর শর্ত আরোপ
নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত যুব তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা কুন্তল ঘোষের জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ রায় কুন্তলের জামিনের আবেদন গ্রহণ করেন। তবে শর্তসাপেক্ষে এই জামিন দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে এবং নিম্ন আদালতে শুনানির সময় হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, আদালতে তাঁর মোবাইল নম্বর জমা দিতে হবে এবং সেটি পরিবর্তন করা যাবে না।
তবে জামিনের শর্ত আরও কঠোর। কুন্তল কোনও সাক্ষীকে প্রভাবিত করতে পারবেন না এবং আর্থিক লেনদেনের উৎসের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে হবে।
ইডির মামলায় জামিন, সিবিআই মামলায় মুক্তি নেই
ইডির মামলায় জামিন পেলেও, সিবিআইয়ের দায়ের করা মামলায় কুন্তল এখনও মুক্তি পাননি। এর ফলে তিনি এখনই জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। আদালতে ইডি জানায়, কুন্তলের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি গ্রেফতারির পরেও তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেড় কোটি টাকার বেশি টাকা ঢুকেছে বলে দাবি করেছে ইডি।
সুপ্রিম কোর্ট থেকে হাই কোর্টে মামলা
কুন্তল ঘোষ এর আগে সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে শীর্ষ আদালত সেই আবেদন ফেরত পাঠিয়ে দেয় কলকাতা হাই কোর্টে। সেখানেই তাঁর জামিনের আবেদন নিয়ে দীর্ঘ শুনানির পর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি মঞ্জুর করা হয়।
কুন্তলের আইনজীবী যুক্তি দেন, নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত মানিক ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছেন। তাই কুন্তলের ক্ষেত্রেও সেই একই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ইডির বিরোধিতা ও যুক্তি
ইডির আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি আদালতে যুক্তি দেন, কুন্তল ঘোষের জামিন মানিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে তুলনীয় নয়। মানিক শুধুমাত্র ইডির দ্বারা গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের মামলা ছিল না। অন্যদিকে, কুন্তলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪৭৯(২) ধারার উল্লেখ করে ইডি জানায়, একাধিক মামলার ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করা উপযুক্ত নয়।
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতিতে কুন্তলের নাম
কুন্তল ঘোষের নাম প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, প্রাথমিক শিক্ষক পদপ্রার্থীদের কাছ থেকে তিনি কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন। অপসারিত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কুন্তলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
তাপস মণ্ডল নামে এক অভিযুক্ত তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, ৩২৫ জন প্রার্থী থেকে ৩ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েছেন কুন্তল। বাঁকা পথে তাঁর কাছে প্রায় ১৯ কোটি টাকারও বেশি পৌঁছেছিল বলে দাবি করেছিলেন তাপস।
গ্রেফতার ও তদন্তের সময়কাল
২০২৩ সালের ২১ জানুয়ারি ইডি কুন্তল ঘোষকে গ্রেফতার করে। হুগলির তৎকালীন যুবনেতার বাড়িতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর তাঁকে আটক করা হয়। তদন্তের সময় কুন্তলের আর্থিক লেনদেন এবং বেআইনি আয়ের বিষয়ে একাধিক তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে ইডি।
প্রাথমিক স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় কুন্তল ঘোষের জামিন, তবে শর্ত দিল হাইকোর্ট
কলকাতা হাই কোর্ট কুন্তলের মুক্তির জন্য যে শর্তগুলি বেঁধে দিয়েছে, তা ভঙ্গ করা হলে জামিন বাতিল হতে পারে। বিশেষত, পাসপোর্ট জমা রাখা এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত না করার শর্তগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই মামলার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এলে কুন্তলের আইনি সমস্যা আরও বাড়তে পারে।



