বাংলায় বর্ষা বিদায় নিচ্ছে না এখনও। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে নাছোড় বৃষ্টি চলবে। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আজ, বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতার আকাশ সকাল থেকেই মেঘাচ্ছন্ন। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৮১ থেকে ৯৫ শতাংশ। মহানগরের আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.১ ডিগ্রি।


উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। আলিপুরদুয়ারের একাধিক এলাকায় কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। শনিবার পর্যন্ত চলবে এই বৃষ্টি। ফলে পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধস ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।
দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির পরিস্থিতিও একই রকম। শুক্রবার বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে আটটি জেলায়। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বাঁকুড়া জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে দক্ষিণবঙ্গেও।
দেশের অন্যান্য রাজ্যে বর্ষার বিদায়পর্ব শুরু হলেও বাংলায় তা হয়নি। রাজস্থান থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর বর্ষা বিদায় নিয়েছে। গুজরাট, পাঞ্জাব, হরিয়ানায় বর্ষা বিদায়পর্ব শুরু হলেও বাংলায় এখনও বর্ষার বৃষ্টি চলছে।


হাওয়া অফিসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় নিম্নচাপের কারণে রাজ্য জুড়ে মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পুজোর আগে বর্ষা বিদায় নেবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে, আপাতত আগামী কয়েক দিন বাংলার আকাশে মেঘ ও নাছোড় বৃষ্টি সঙ্গী হয়েই থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় বর্ষার অবস্থান এ বছর বৃষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করছে বটে, কিন্তু একটানা বৃষ্টি পরিকাঠামো ও পরিবহনের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। ফলে প্রশাসন থেকে নাগরিক সকলেরই প্রস্তুত থাকা দরকার।








