অগ্রহায়ণের শেষ প্রান্তে এসে সাধারণত যে শীতের জাঁকিয়ে বসার কথা, কলকাতায় তার উল্টো ছবি ধরা পড়ছে। পৌষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও শহরে শীতের ধার কম। রবিবার সকালে হালকা রোদে চায়ের দোকানে ভিড় জমলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেকেই চাদর সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। বেলা বাড়তেই ডিসেম্বরের বদলে ফেব্রুয়ারির শেষের মতো আবহাওয়ার অনুভূতি।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য বলছে, ডিসেম্বরের প্রথম ১৪ দিনে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল মাত্র দু’দিন। আট দিন রাতের তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রির আশপাশে। এমনকি দিনের সর্বনিম্ন ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে আটকে থাকার নজিরও রয়েছে। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৮ ডিগ্রি, কিন্তু তার পরেই হঠাৎ উধাও শীতের আমেজ।


এই বদলের মূল কারণ হিসেবে আবহবিদরা তুলে ধরছেন উত্তর-পশ্চিম ভারতে তৈরি হওয়া পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব। এর ফলে উত্তর দিক থেকে আসা ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসের প্রবাহ সাময়িক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার বদলে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ বাতাস ঢুকছে দক্ষিণবঙ্গে। দুর্বল ‘উত্তুরে’ হাওয়ার স্রোত সেই পুবালি বাতাসকে ঠেকাতে পারছে না।
এর ফলেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে রাতের তাপমাত্রা আর কমছে না, বরং দিনের বেলা রোদের তেজে উষ্ণতা বাড়ছে। আবহবিদদের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব পুরোপুরি কাটলেই নতুন করে শীতের জোরাল উপস্থিতি টের পাওয়া যাবে।
উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় যদিও এখনও শীতের ছাপ রয়েছে। শনিবার গভীর রাতে আলিপুরদুয়ারে তাপমাত্রা নেমেছিল ৯.১ ডিগ্রি এবং কোচবিহারে ৯ ডিগ্রিতে। দার্জিলিংয়েও রাতের দিকে ঠান্ডা ছিল। তবে দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানেও তাপমাত্রা চড়ছে। রবিবার ভোরে মেঘের আস্তরণে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট দেখা না গেলেও, বেলা গড়াতেই মেঘ কেটে পাহাড়ের ঝকঝকে দৃশ্য মন ভরিয়েছে পর্যটক ও স্থানীয়দের।


আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গে এই উষ্ণ-শীতল মিশ্র আবহাওয়া বজায় থাকবে। শীতের প্রেমীদের অপেক্ষা তাই আরও কিছুটা দীর্ঘ হতে চলেছে।








