কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শান্তা দত্তের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠছে। বিশ্বকর্মা পুজোয় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা রাখার পর থেকেই বিতর্ক তীব্র হয়েছে। শিক্ষক, ছাত্র এমনকি তৃণমূল প্রভাবিত অধ্যাপকদের সংগঠন ওয়েবকুপার একাংশও তদন্তের দাবি তুলেছেন। অভিযোগের তালিকায় আর্থিক অনিয়ম থেকে শুরু করে র্যাঙ্কিংয়ের অবনতি—সবই রয়েছে।
শান্তা দত্তের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগগুলো
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়াই একাধিক সিন্ডিকেট মিটিং ডাকা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। এমনকি এফডি ভাঙা ও ফান্ড খরচ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অধ্যাপকরা।


এছাড়া মানবাধিকার কোর্সের ফলাফল দীর্ঘদিন আটকে রাখা, পিএইচডি কমিটি গঠন নিয়ে পক্ষপাতিত্ব, গবেষণায় ওবিসি-এসসি প্রার্থীদের বাধা দেওয়া—এসবও অভিযোগের তালিকায় রয়েছে।

র্যাঙ্কিংয়ে বড় ধস
বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্কে (NIRF) চতুর্থ স্থানে ছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু শান্তা দত্ত দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই র্যাঙ্কিংয়ে পতন শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অবস্থান নেমে এসেছে ১৬তম স্থানে।
ছাত্র রাজনীতি নিয়েও অভিযোগ
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একাধিক সদস্যকে লক্ষ্য করে এফআইআর করানোর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সম্প্রতি টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবসে ছাত্র সংগঠনের আবেদনের দিনেই পরীক্ষা নির্ধারণ করায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে।


ওয়েবকুপার অবস্থান
ওয়েবকুপার একাংশের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও গুণমান রক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তাঁরা জানিয়েছেন, ১৪ দফা অভিযোগের নথি উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কাছে পেশ করা হবে।
উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া
এই সমস্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শান্তা দত্তের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। ফোন বা এসএমএস—কোনও কিছুরই উত্তর দেননি তিনি।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রমহলের দাবি, এত গুরুতর অভিযোগ অগ্রাহ্য করা যায় না। তাঁরা চাইছেন স্বচ্ছ তদন্ত, যাতে সত্য প্রকাশ্যে আসে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম প্রাচীন ও সম্মানজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা ১৪ দফা অভিযোগ দ্রুত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ণ হতে পারে।







