দিনভর ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল ছিল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ। কিন্তু বিকেল গড়াতেই বদলে গেল আবহাওয়ার ছবি। আবহাওয়ার খবর অনুযায়ী, কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ, শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। কলকাতায় ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে দেখা যায়, আর তার জেরে বিমান পরিষেবা থেকে ট্রেন চলাচল— একাধিক ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটে।
শুক্রবার দুপুরের পর কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি আছড়ে পড়ে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের ছয় জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছে। কোথাও কোথাও ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট থেকে ২টা ৪৭ মিনিটের মধ্যে কলকাতার আলিপুরে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার। একই সময়ে দমদমেও ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে দেখা যায়।
ঝড়ের তীব্র প্রভাবে প্রায় এক ঘণ্টার জন্য কলকাতা বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখতে হয়। মধ্যমগ্রাম স্টেশনের কাছে রেললাইনের উপর গাছ ভেঙে পড়ায় বনগাঁ শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। একইভাবে ব্যান্ডেল-কাটোয়া শাখাতেও গাছ উপড়ে পড়ায় কিছু সময়ের জন্য ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। সল্টলেক, ধর্মতলা, যাদবপুর, বরাহনগর-সহ একাধিক এলাকায় প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট দেখা যায়। দুপুরবেলায় আকাশ এতটাই অন্ধকার হয়ে যায় যে অনেক জায়গায় গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হয়েছে।
ময়দান সংলগ্ন এসএসকেএম হাসপাতালের কাছে একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। রাসবিহারী, রবীন্দ্র সরোবর, নেতাজিনগর, টালিগঞ্জ, হরিশ মুখার্জি রোড, রিপন স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট ও এজেসি বোস রোডেও গাছ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
শহরের কয়েকটি এলাকায় জল জমার সমস্যাও দেখা দেয়। চাঁদনি চক ও ঠনঠনিয়া এলাকায় রাস্তায় জল জমে যানবাহন চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। দক্ষিণ কলকাতার একটি শপিং মলে কাচ ভেঙে বৃষ্টির জল ঢুকে পড়ে। ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনেও ছাদের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্টেশনের ভিতরে জল পড়তে দেখা যায়।
কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া ও হুগলিতেও ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডব চলে। সিঙ্গুরের দিয়াড়ায় ১২ নম্বর রাজ্য সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বৈদ্যবাটি-তারকেশ্বর সড়কেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রশাসনের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন।
হুগলির বৈঁচিগ্রামে একটি প্রাচীন বটগাছ উপড়ে পড়ে। বাঁশবেড়িয়া পুর এলাকার একটি জুট মিল কলোনিতেও বড় গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও কিছু সময়ের জন্য প্রভাবিত হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ঝড়বৃষ্টির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এই জেলাগুলির জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদিয়ায়ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বস্তির খবর, এই ঝড়বৃষ্টির ফলে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। আগামী কয়েক দিনে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পারদ নামার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবারও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে রবিবারের পর থেকে ঝড়ের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।




