শারদোৎসবের প্রাক্কালে দক্ষিণবঙ্গের আকাশ ভেঙে পড়ছে টানা বৃষ্টিতে। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত থামার নাম নেই। কলকাতা পুরসভার দাবি, আর একফোঁটা বৃষ্টি না হলেও শহরের জল নামতে অন্তত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগবে। এরই মধ্যে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিল।
কলকাতার পরিস্থিতি
পুরসভার কন্ট্রোল রুম সূত্রে খবর, রাত থেকে ভোর পর্যন্ত শহরে রেকর্ড হয়েছে ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি। ফলে কলেজ স্ট্রিট, সিআর অ্যাভিনিউ, জেএম অ্যাভিনিউ, বিটি রোড, বিকে পাল ছাড়াও বেহালা, বড়িশা, ঠাকুরপুকুর, মেটিয়াবুরুজ ও গার্ডেনরিচ কার্যত জলমগ্ন। মেয়র পরিষদ (নিকাশি) তারক সিংহ জানান, “আমাদের নিকাশি বিভাগ কাজ করছে, তবে লকগেট বন্ধ থাকায় প্রচুর জল জমে গিয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে সময় লাগছে।”


নিম্নচাপের প্রভাবে ২৮ তারিখ পর্যন্ত টানা বৃষ্টি, ২৯ বিরতি, ৩০ থেকে আবার! সতর্কতা জারি

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে নতুন দুশ্চিন্তা
আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে ২৮ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ মহাষষ্ঠী পর্যন্ত টানা বৃষ্টি চলবে। বুধবারের বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট দেখা যেতে পারে।
তবে আশার খবর, ২৯ সেপ্টেম্বর সপ্তমীতে আকাশ পরিষ্কার থাকবে। কিন্তু সেই একই দিনে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে আরও একটি নতুন নিম্নচাপ ঘনীভূত হবে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এই নিম্নচাপটি পশ্চিমে সরে এসে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ফের বৃষ্টি শুরু হবে।
নিকাশি ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর গঙ্গায় জোয়ার আসায় লকগেট বন্ধ রাখতে হবে। পুরসভার এক আধিকারিক জানান, “লকগেট বন্ধ থাকার সময় ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।” এই আশঙ্কাতেই কলকাতা পুরসভা ইতিমধ্যেই ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।


দক্ষিণবঙ্গজুড়ে নিম্নচাপের প্রভাব
অন্ধ্র ও ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি সমুদ্র এলাকায় তৈরি নিম্নচাপের ব্যাসার্ধ প্রায় ৭০০ কিলোমিটার। এর প্রভাবে দুই প্রান্তে প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার এলাকায় সক্রিয় হচ্ছে এই দুর্যোগ। ভূবিজ্ঞানী সুজীব কর জানিয়েছেন, পাশাপাশি কাঁথির উপরে একটি স্থানীয় নিম্নচাপ অক্ষরেখা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে।
পুজোর মুখে বাড়ছে দুশ্চিন্তা
দুর্গাপুজোর আগেই টানা বৃষ্টিতে অস্বস্তিতে সাধারণ মানুষ। দোকানপাট, অফিস, হাসপাতাল থেকে শুরু করে পরিবহণ সব ক্ষেত্রেই ব্যাঘাত ঘটছে। পুরসভা দাবি করছে, নিকাশি ব্যবস্থা দ্রুত কাজ করছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে—শারদোৎসবের ক’দিনে ফের নিম্নচাপ তৈরি হলে কলকাতা কতটা প্রস্তুত?







