টালা থানার ওসি গ্রেফতার হওয়ার পর এবার বেঁকে বসেছিলেন কলকাতা পুলিশের নিচুতলার কর্মীরা। প্রায় ১৪ দফা দাবি এবং প্রস্তাব জানিয়েছিলেন তাঁরা। যার মধ্যে প্রথম দাবী ছিল অভিজিৎকে ‘আইনি সহায়তা’ দিতে হবে পুলিশকেই। তার ব্যয়ও বহন করতে হবে পুলিশকে। তিনি জামিন না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি শুনানিতে আদালতে যেতে হবে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার এবং ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আফিসারদের। অভিজিতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাঁর সার্ভে পার্কের বাড়ির নিরাপত্তাও পুলিশের তরফে ‘সুনিশ্চিত’ করতে হবে। কিন্তু আজ সিবিআইএর হাতে গ্রেফতার হওয়া বিচারাধীন টালা থানার প্রাক্তন ওসিকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়।
গত শনিবার অভিজিৎকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। বর্তমানে তিনি রয়েছেন সিবিআই হেফাজতে। গ্রেফতারির পর চার দিন কেটে গিয়েছে। এই অবস্থায় টালা থানার প্রাক্তন ওসিকে সাসপেন্ড করা হল। যদিও পুলিশের উপরতলা সূত্রে দাবী, এটি একটি রুটিন পদক্ষেপ। কারণ কোনও সরকারি কর্মী গ্রেফতার হয়ে ৪৮ ঘণ্টার বেশি তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে থাকলে, নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে সাসপেন্ড করতে হয়।
যদিও এই সাসপেন্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়ছে পুলিশের নিচু তলায় বলা জানিয়েছে সূত্র। সূত্রের খবর, নিচুতলার পুলিশ কর্মীরা সবসময় ওর্ডার মানেন উপর তলার, সে যতই সরকারিভাবে না আসুক না কেন। কিন্তু কোন কারনে বিপদে পড়লে নিচুতলার পুলিশ কর্মীদেরই সমস্যার মুখে পড়তে হয়। সেই কারনেই অভিজিতের গ্রেফতারির পর প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের কাছে ১৪ দফা দাবী এবং প্রস্তাব রেখেছিলেন নিচুতলার পুলিশ কর্মীরা।
তাঁরা হোয়াটসঅ্যাপ কলে আর নির্দেশ নিতে চাননা বলে জানিয়েছিলেন প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার কে। আসলে সাধারণ কল রেকর্ড করা সম্ভব, কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ কল নয়। কিন্তু এই হোয়াটসঅ্যাপ কলেই আসে নানারকম নির্দেশ। আর সেই নির্দেশ পালন করার পর বিপদে পড়লে পাশে থাকেন না কেউ। এমন কি যিনি নির্দেশ দিয়েছেন তিনিও। পুলিশের নিচু তলার কর্মীরা বারবার ফেঁসে গিয়েছেন উপরতলাকে খুশী করতে। সব মিলিয়ে টালা থানার ওসি গ্রেফতার হওয়ার পর কিছুটা বেঁকে বসেছেন কলকাতা পুলিশের নিচুতলার কর্মীরা। প্রায় ১৪ দফা দাবি এবং প্রস্তাব জানিয়েছেন তাঁরা।
বিনীত গোয়েলের সঙ্গে বৈঠকে বসার সময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন থানার ওসিরা। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে তৎকালীন নগরপাল বিনীত গোয়েলকে শ’খানেক নিচুতলার অফিসার ঘিরে ধরে বলেন, তাঁরা আর এর পর থেকে ‘হোয়াট্সঅ্যাপ কল’-এ কোনও নির্দেশ নেবেন না! সূত্রের দাবি পুলিশ কর্মিরা চেয়েছেন টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের পাশে সবরকম ভাবে থাকতে হবে পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের। ‘বলি কা বকরা’ বানানো চলবে না। দৈনিক ১ ঘন্টা কর্মবিরতির কথাও বলা হয়েছে নিচুতলার পুলিশকর্মীদের তরফে।



