বিধানসভা ভোটের আবহে কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে বাংলার প্রাপ্তি নিয়ে প্রত্যাশা ছিল প্রবল। ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশের দিনে সেই আশাতেই চোখ ছিল বঙ্গবাসীর। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পর অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত—বাংলার প্রাপ্তি হতাশাজনক। বিশেষ করে কলকাতা মেট্রোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পে বরাদ্দ যে খুব বেশি নয়, তা মানছেন পরিবহণ ও নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরাও। প্রশ্ন উঠছে, ভোটের আগে মেট্রো সম্প্রসারণে কি যথেষ্ট গুরুত্ব দিল কেন্দ্র?
২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন কলকাতা মেট্রোর বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য একাধিক বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন। তবে মোট অঙ্কের তুলনায় কাজের পরিধি অনেক বেশি—এই যুক্তিতেই ‘যৎসামান্য’ বলেই মনে করছেন অনেকেই।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ এসেছে জোকা–এসপ্ল্যানেড পার্পল লাইনের জন্য। এই প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়েছে ৯১৪ কোটি টাকা। বর্তমানে জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত মেট্রো চলাচল করছে। মাঝেরহাট থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত অংশে মাটির নিচে কাজ চলছে। বাজেটের এই বরাদ্দ মূলত সেই ভূগর্ভস্থ কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইনের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৭২০ কোটি টাকা। যদিও বাস্তবে এই প্রকল্পের কাজ বেশ কিছু জায়গায় থমকে রয়েছে। চিংড়িহাটা এলাকায় কাজের গতি খুবই ধীর। পাশাপাশি সল্টলেক সেক্টর ফাইভে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় এখনও পুরোপুরি গতি পায়নি এই রুট।
ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রো এবং KMRCL-এর গ্রিন লাইনের জন্য একসঙ্গে বরাদ্দ করা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। যদিও যাত্রী পরিষেবা সম্পূর্ণ চালু ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য এই বরাদ্দ যে পর্যাপ্ত নয়, তা মেট্রো কর্তাদের একাংশেরও মত।


সবচেয়ে বড় অঙ্কের প্রস্তাব এসেছে ইয়েলো লাইন ঘিরে। বারাসতে কারশেড তৈরি, জমি অধিগ্রহণ-সহ একাধিক কাজের জন্য মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন প্রজেক্টে ২,৮৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই অর্থের একটি অংশ বিমানবন্দর মেট্রো স্টেশন পেরিয়ে ইয়েলো লাইন সম্প্রসারণের কাজেও ব্যয় হবে।
সব মিলিয়ে, কলকাতা মেট্রোর জন্য বাজেটে যে বরাদ্দ ঘোষণা হয়েছে, তা প্রকল্প অনুযায়ী ভাগ করা হলেও সামগ্রিক ভাবে খুব বড় কোনও চমক নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। ভোটের আগে কেন্দ্র কি আরও বড় ঘোষণা করতে পারত—এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে।








