খাস কলকাতায় ফের ধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্য। জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে এক তরুণী নাকি ‘গণধর্ষণ’-এর শিকার হয়েছেন। ইতিমধ্যেই নির্যাতিতা হরিদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে পুলিশ এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে রিজেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাটে জন্মদিনের পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন ওই তরুণী। সেখানেই নাকি কয়েকজন তাঁকে গণধর্ষণ করে। নির্যাতিতার বয়ানকে প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত এগোচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।


ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপস্থিত অন্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে তদন্তকারী অফিসারেরা। পুলিশের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের মুখোমুখি করা হবে।
এই অভিযোগে স্বাভাবিকভাবেই আলোড়ন তৈরি হয়েছে শহর জুড়ে। কারণ এর আগে কসবার আইন কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল গোটা রাজ্য। মনোজিৎ মিশ্র, জ়াইব আহমেদ এবং প্রমিত মুখোপাধ্যায় নামে তিন অভিযুক্তকে তখন গ্রেপ্তার করেছিল কলকাতা পুলিশ। জুন মাসে ঘটেছিল সেই নৃশংস ঘটনা, যার প্রতিধ্বনি এখনও থামেনি।
নতুন করে হরিদেবপুর থানায় এই মামলা দায়েরের ফলে নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে। নাগরিক সমাজের অনেকেই বলছেন, শহরের অন্দরেই যদি এভাবে পার্টির আড়ালে অপরাধ ঘটে, তবে সাধারণ মহিলাদের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।


সামাজিক মাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। বিশেষত, ধারাবাহিকভাবে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে কোনও গাফিলতি করা হবে না। নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রমাণ সংগ্রহে ফরেন্সিক টিমও কাজ শুরু করেছে। পুলিশের আশা, খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, জন্মদিনের আনন্দের আসর থেকেই এই নৃশংস ঘটনার অভিযোগে শহরজুড়ে এখন তোলপাড়। নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের নতুন করে বিতর্ক ছড়াল খাস কলকাতার বুকেই।







