কলকাতার নব যুবক সঙ্ঘের কালীপুজো আজও পরিচিত ফাটাকেষ্টর পুজো হিসেবে। ফাটাকেষ্ট, আসল নাম কৃষ্ণচন্দ্র, কলকাতার প্রথম ‘ডন’ হিসেবে পরিচিত হলেও তার কালীপুজো বারোয়ারি পুজোর মধ্যে অন্যতম। প্রায় ১৫,০০০ ভক্তের সমাগম হয় এই পুজোয়, যেখানে ভক্তি আর ঐতিহ্যের অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটে।
ফাটাকেষ্টর জীবনের শুরুটা অবশ্যই ছিল বেশ চমকপ্রদ। কলকাতার এক পান দোকানির ছেলে কৃষ্ণচন্দ্র, ছোটবেলা থেকে জীবনযুদ্ধে অভ্যস্ত ছিলেন। একাধিক আঘাতে মৃত্যুর মুখোমুখি হলেও, এই অভিজ্ঞতাই তাকে মাতৃভক্তিতে আরও দৃঢ় করে তোলে। ১৯৫৫ সালে কলকাতার গুরু প্রসাদ চৌধুরী লেনে প্রথম কালীপুজো শুরু করেন তিনি, যা পরে সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটে স্থানান্তরিত হয় এবং ক্রমশ জনপ্রিয়তা লাভ করে।


বিশেষ এই পুজোয় তারকাদের আগমন বরাবরই উচ্ছ্বাসের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খন্না, আশা ভোঁসলে এবং উত্তম কুমারের মতন তারকারা এখানে এসে মাতৃ আরাধনায় অংশগ্রহণ করেছেন। এই পুজোই ফাটাকেষ্টর প্রতি বছরের একটি প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
এই কালীপুজোর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এটি কেবলমাত্র জাঁকজমক প্রদর্শনের জন্য নয়, বরং এখানে পূর্ণ নিষ্ঠায় মাতৃ আরাধনা করা হয়। অঞ্জলির সময় ভক্তদের বিশ্বাস, মা এখানে ‘জাগ্রত’। একবার পুজোর সময় এক নারীর উপর মাতৃভর হয় এবং মা লাল পাড় শাড়ি পরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এমনকি আরও একবার, ছোট গ্লাসে জল দেওয়ায় মা বড় গ্লাসে জল দেওয়ার জন্য ভর দিয়ে জানিয়েছিলেন। এমন সব বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই পুজোটি তার জাগ্রত রূপে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।
পুজোর আয়োজনের বিশেষত হলো, প্রতিমাকে আবাহন করার পূর্বে কুমোরটুলির পটুয়াঘরে সমস্ত গয়না পরিয়ে, মোমবাতি জ্বালিয়ে, আরতি করে তাঁকে হাতে পান দিয়ে মণ্ডপে আনা হয়। ভোগ রান্নার দায়িত্ব শুধুমাত্র পুরোহিতের, যিনি নিজে শুদ্ধ বস্ত্রে মায়ের ভোগ প্রস্তুত করেন।


১৯৯২ সালে ফাটাকেষ্টের প্রয়াণ হলেও, আজও তার পুজো একইভাবে সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটে পালন করা হয়। দীপান্বিতা তিথিতে মা ঘননীল বরণ নিয়ে দশ ফুটের গলিতে আসেন, এবং তার টানে এখনও ভক্তরা আসেন প্রতিবার। কলকাতার মানুষদের কাছে এই পুজো শুধু উৎসব নয়, এটি এক অসীম ভক্তি এবং ঐতিহ্যের সম্মিলন।







